রাজনীতির ময়দানে কেউ যে কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না, তা গতকালের অভিষেকের বক্তব্য থেকে বেশ স্পষ্ট। এদিন শুভেন্দুকে একের পর এক বাক্যবাণে বিঁধলেন তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, দলের ‘উপসর্গহীন বেইমান’-দের চিহ্নিত করে ফেলেছে তৃণমূল।
গতকাল রবিবার, নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে বেশ কড়া ভাষায় শুভেন্দুর উপর নিজের সব ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিষেক। এদিন শুভেন্দুর মতো তৃণমূল ত্যাগী বিভিন্ন নেতা, বিধায়কদের উপসর্গহীন করোনা রোগীর সঙ্গে তুলনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “হঠাৎ করে এত প্রেম, বাবা! বলছে অমিত শাহ আমার দাদা। অমিত শাহ দাদা হলে ভাইপোটি কে? অমিত শাহ্’র ছেলে?”
এদিন শুভেন্দুকে আরও বিঁধে তিনি বলেন, “২০১৪ সালে অমিত শাহ্’র সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আপনারা জানেন, এই যে করোনা চলছে, অনেক জায়গায় রোগটা ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন মুম্বইয়ের ধারাভি বলে একটা বস্তি আছে, সেখানে রোগটা ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আছে। কলকাতায় আমাদের সংক্রমণ অনেক বেড়েছিল, হাওড়ায় বেড়েছিল। তার কারণ কী? করোনায় ৮০ শতাংশ লোক উপসর্গহীন। আমাদের দলেও কিছু উপসর্গহীন বেইমানেরা ছিল। এই বেইমানগুলোকে আমরা চিহ্নিত করে ফেলেছি”।
গত ১৯শে ডিসেম্বর শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অভিষেক ও শুভেন্দুর রাজনৈতিক লড়াইটা বেশ দৃঢ় হয়ে গিয়েছে। একে অপরকে আক্রমণ শানাতে কেউই পিছু হটছেন না। কোনও না কোনও কটাক্ষ করেই চলেছেন একে অপরকে। সেই রেশ ধরেই অভিষেক বলেন যে তৃণমূল ভাইরাসমুক্ত হচ্ছে। সৌমিত্র খাঁ-এর মন্তব্য টেনে তিনি বলেন বিজেপি সাংসদ তো নিজেই বলেছেন যে তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দু বিষ্ণুপুরে গেরুয়া শিবিরকে জিততে সাহায্য করেছিলেন। এরপরই শুভেন্দুকে শানিয়ে তাঁর বক্তব্য, “বলছে তৃণমূলে থাকতে লজ্জা করছে। তোমার বাবা ও ভাই তো এখনও তৃণমূল করে, তাদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতে লজ্জা করছে না?”






