ফের ছেদ পড়ল প্রথাতে, এবছরও দোলের দিন বসন্ত উৎসব হবে না বিশ্বভারতীতে, ঘোষণা উপাচার্যের

এবছরও শান্তিনিকেতনে দোলের দিন বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব হবে না। পরে নিজেদের মতো করেই উৎসব পালন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। এই নিয়েব পরপর দু’বছর দীর্ঘদিনের প্রথাতে ছেদ পড়ল। তবে বসন্ত উৎসবের সমস্ত রীতি পালন হবে, এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল, শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতেই এমন কথা বলতে শোনা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।

তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে বসন্ত উৎসব কোন দিনে হবে, তা ঘোষণা করছি না। আলোচনা করে দিন ঘোষণা করা হবে। এটা বিশ্বভারতীর পরিবারের অনুষ্ঠান। এটা কখনই আমজনতার অনুষ্ঠান ছিল না”। তবে কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, বসন্ত উৎসবের যে রীতি রয়েছে, তা পালন করা হবে এদিন। বৈতালিক ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানের তালেই হবে শোভাযাত্রা। তবে এই বৈতালিক হবে সম্পূর্ণ ঘরোয়াভাবেই।

বলে রাখি, ১৯০৭ সালে শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমীর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটো ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঋতু উৎসবের সূচনা করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠান হয়েছিল প্রাককুটিরে যা এখন শমীন্দ্র পাঠাগার নামেই পরিচিত। মনে করা হয়, এই ঋতু উৎসবের মধ্যে দিয়েই সূচনা হয় বসন্ত উৎসবের। প্রথমে এই বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হত আম্রকুঞ্জে। তবে পরিবর্তীতে ভিড় বাড়ায়, তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আশ্রম মাঠে।

তবে ২০১৮ সালের বসন্ত উৎসবে বিশ্বভারতীতে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এর জেরে বসন্ত উৎসব শেষ হওয়ার পরই বিশ্বভারতীর বিভিন্ন রাস্তা অররুদ্ধ হয়ে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় মানুষকে। পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এর কারণে এরপরই বসন্ত উৎসবের দিন পরিবর্তন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে নিজেদের মতো করে বসন্ত উৎসব পালন করে বিশ্বভারতী। এই বছরও তেমনটাই হবে বলে জানা যাচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে উপাচার্যকে বলতে শোনা গিয়েছে, “বসন্ত উৎসব আগের মতো হবে না। গত বছর যেভাবে হয়েছিল এবার সেভাবে হবে। বিশ্বভারতী পরিবারে বসন্ত উৎসব খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনান্য অনুষ্ঠানের মতো বসন্ত উৎসব করব আমরা হোলির দিন বসন্ত উৎসব করব না”।

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, “সেদিন বসন্ত উৎসব করলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাজ্য পুলিশ আমাদের সাহায্য করে না। তাই আমরা রাজ্য সরকারের পুলিশের উপর নির্ভর করতে পারি না। এটা বিশ্বভারতীর পরিবারের অনুষ্ঠান, আমরা নিজেদের মতো করব। করোনার জন্য এখনও কারফিউ রয়েছে। তাই সন্ধের বৈতালিক করব না আমরা। তবে সকালের বৈতালিক হবে”।

RELATED Articles