খেলাধুলোকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ, অথচ মাঠের ধারে হঠাৎ চড়ে গেল উত্তেজনার পারদ। ফুটবল টুর্নামেন্ট মানেই আনন্দ, খেলোয়াড়ি মনোভাব আর ক্রীড়া প্রতিভা প্রদর্শনের আসর। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের কারবালা ফুটবল মাঠে সেই উৎসবের আবহেই ছড়াল অশান্তির রেশ। খেলার ছন্দকে ছাপিয়ে গেল রাজনৈতিক রঙ, আর এর জেরেই সামনে এল এমন এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যা ক্ষোভ ছড়িয়েছে পড়ুয়া থেকে স্থানীয়দের মধ্যে।
শনিবার ‘খেলা হবে’ দিবস উপলক্ষে ভাঙড়-২ ব্লক এবং পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল আন্তঃরাজ্য ফুটবল টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা, বিডিও পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশাসনের অন্য কর্তারা। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভগবান হাই স্কুল ও হাতিশালা সরোজিনী হাই মাদ্রাসা মুখোমুখি হয়েছিল। ঠিক তখনই খেলার মাঠে দুই দলের মধ্যে বচসা শুরু হয়, আর সেই বচসার মধ্যেই বাইরে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
অভিযোগ উঠেছে, খেলার উত্তেজনার মাঝেই ভগবান হাই স্কুলের এক শিক্ষক নাসিরউদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করেন ভগবানপুর হাই স্কুলের সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা খয়রুল ইসলাম। শুধু তিনিই নন, আরও তিন শিক্ষক আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। নাসিরউদ্দিনের বক্তব্য, “খেলার সময় খয়রুল ইসলামের নেতৃত্বে কিছু বহিরাগত আমাদের উপর চড়াও হয় এবং আমাকে কিল, ঘুষি, চড় মারে। মাথা ও মুখে চোট লাগে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ধমকচমক ও গালিগালাজও করা হয়।”
অভিযুক্ত খয়রুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত এবং বর্তমানে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্তর কাশীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত শিক্ষক। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। তারা থানার সামনে বসে শিক্ষকের জন্য বিচার দাবি জানায়। তবে অভিযুক্ত নেতা বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
আরও পড়ুনঃ Astrology: বুধের সিংহ রাশিতে প্রবেশ, ৩০ অগাস্ট থেকে ৩ রাশির ভাগ্যে আসছে বড় পরিবর্তন
পুলিশ সূত্রে খবর, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকা প্রশাসনের একাধিক কর্তাকেও ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রীড়াঙ্গন কেন রাজনৈতিক দাদাগিরির অঙ্গনে পরিণত হবে? খেলার আবহে শিক্ষক মারধরের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় এলাকা। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে এবং শিক্ষকের ন্যায্য বিচার কতটা নিশ্চিত করা যায়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার