শহরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Calcutta University)। হাজারো ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে, অনেকেই থাকেন হস্টেলে। কিন্তু সেই হস্টেলেই যদি হঠাৎ নিরাপত্তার ঘাটতি চোখে পড়ে, তাহলে আতঙ্ক ছড়ানো স্বাভাবিক। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলেন মহাত্মা গান্ধী রোডের ছাত্রীরা। গভীর রাতে অচেনা এক যুবক ঢুকে পড়ে ছাত্রীর ঘরে, এরপরেই নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
শনিবার গভীর রাতে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সায়ন্তনী চক্রবর্তী নিজের ঘরে বিশ্রামে ছিলেন। দাবি, গরমে তিনি বারান্দার দরজা খোলা রেখেই ঘুমিয়েছিলেন। আচমকা ট্রলিব্যাগ পড়ে যাওয়ার শব্দে ঘুম ভাঙতেই তিনি দেখেন ঘরে ঢুকে পড়েছে এক যুবক। ওই যুবক ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র হাতড়াচ্ছিল। তাঁকে আটকাতে গেলে সায়ন্তনীকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। মুহূর্তের মধ্যেই সে বারান্দার পাইপ বেয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
পরে সায়ন্তনী বুঝতে পারেন, তাঁর মোবাইল ফোন খোয়া গিয়েছে। অন্য কিছু খোয়া গিয়েছে কি না, তা তিনি তখনও খতিয়ে দেখেননি। ঘটনার পরপরই তিনি খবর দেন হস্টেলের সুপারকে। অভিযোগ, প্রথমে সুপার তাঁকে জানান, “অভিযুক্ত তো পালিয়েছে, কিছু করার নেই, আগামীকাল দেখা হবে।” এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন ছাত্রী। পরে অবশ্য সুপার দাবি করেন, তিনি এমন কিছু বলেননি।
হস্টেল সুপার চান্দ্রেয়ী মুর্মু জানান, “ছাত্রীদের বারবার বলা হয়েছে দরজা-জানলা খোলা রেখে শোওয়া যাবে না। অভিযুক্ত পিছনের দিক দিয়ে ঢুকেছে। আমাদের হস্টেলে সিসিটিভি রয়েছে। তবে রাতে যখন ছাত্রী ঘটনাটি জানান, তখন পুলিশের নম্বর হাতে ছিল না। পরে সেক্রেটারিকে জানাই, কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।” এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে হস্টেলের অন্যান্য ছাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Violence: ‘খেলা হবে’ দিবসেই দাদাগিরি! ভাঙড়ের মাঠে শিক্ষকের উপর হামলার অভিযোগে তৃণমূল নেতাকে ঘিরে তোলপাড়!
রবিবার সকালে ঘটনাটি কলেজের সম্পাদক অমিত রায়কে জানান সায়ন্তনী। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন। তবে রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা হস্টেলের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ছাত্রীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে তাঁদের আন্দোলন চলবে। প্রশ্ন উঠছে—কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে হস্টেল যদি নিরাপদ না হয়, তবে ছাত্রীরা কোথায় গেলে সুরক্ষিত থাকবেন?





