বীরভূমের লাভপুর থানার অন্তর্গত হাতিয়া গ্রামে নকল সোনার মোহর বিক্রির কারবারের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতারণামূলক এই ব্যবসার দখল নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ বাধে। শনিবার সকালে গ্রামে পাওয়া যায় দুই জনের মৃতদেহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতিয়া গ্রামে বহুদিন ধরেই নকল সোনার মোহর বিক্রির একটি চক্র সক্রিয়। অভিযোগ, এই প্রতারণাচক্রে যুক্ত ব্যক্তিরা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নামমাত্র কয়েকটি সতর্কীকরণ পোস্টার লাগিয়েই দায় সেরেছে প্রশাসন।
গত ছয় মাস ধরে তৃণমূলের এক গোষ্ঠীর কিছু সদস্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে গ্রামছাড়া ছিলেন। শুক্রবার রাতে তারা গ্রামে ফিরতে গেলে, স্থানীয় বুথ সভাপতি শেখ মইনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন অপর গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের ভয়াবহ সংঘর্ষ বাঁধে। রাতভর গ্রামে বোমাবাজি চলে, আতঙ্কে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
শনিবার সকালে লাভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে গেলে গ্রামবাসীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয়দের মতে, পুরো গ্রাম তৃণমূল সমর্থক। আর এই সংঘর্ষ মূলত তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের ফল।
আরও পড়ুনঃ বাইচুং ভুটিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য: “ভারতীয় ফুটবল আজ সার্কাসে পরিণত, কল্যাণ চৌবে সেই সার্কাসের জোকার”
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “ওই এলাকায় নকল সোনার মোহরের চক্র চলে, এটা পুলিশ জানে না—এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? দেশের নানা প্রান্তে মানুষ প্রতারিত হয়েছে। তবুও পুলিশ এই চক্রের মাথাদের ধরছে না। কারণ এই কারবারের টাকায় ভাগ চলে যায় কালীঘাটে, ৭৫/২৫ ফর্মুলায়।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।






