মমতার অস্ত্রেই মমতাকে ঘায়েল করার ছক! একের পর এক ভাতা ও অনুদানের বন্যা বিজেপির ইস্তেহারে…তবে কি এই আর্থিক বাজিতেই বদলে যাবে বাংলার ভোটের অঙ্ক?

বাংলার রাজনীতিতে এবার যেন সব হিসেব-নিকেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে একটাই শব্দকে কেন্দ্র করে ভাতা। সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখন রাজনৈতিক দলগুলির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গত কয়েক বছরে এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, আর এখন সেই পথেই আরও বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি। কে কত বেশি দেবে, আর কার প্রতিশ্রুতি বেশি বাস্তবসম্মত এই প্রশ্নেই জমে উঠছে নির্বাচনের আগের উত্তাপ।

এই আবহেই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে বড় চমক দিয়েছে বিজেপি। আমিত শাহ নিউটাউনে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে একাধিক ঘোষণা করেন। তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই ইস্তেহারই হবে আগামী দিনের ‘রোডম্যাপ’। তবে সেই রোডম্যাপে উন্নয়নের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি সরাসরি ভোটারদের মন জেতার কৌশল।

গত কয়েক বছরে একাধিক ভাতা প্রকল্প চালু করেছেন বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’। এই প্রকল্পগুলি ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হয়। সেই জায়গাতেই আঘাত করতে বিজেপি এবার দ্বিগুণ অঙ্কের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছে। মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা এবং বেকার যুবকদের জন্যও একই অঙ্কের ভাতা দেওয়ার ঘোষণা কার্যত এই লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ “২০ বছর বিরোধীতায় থাকব, তবু হাত মেলাব না” হুমায়ুন বিতর্কে কড়া বার্তা অমিত শাহর! ভাইরাল ভিডিয়োকে ‘বানানো’ বলে দাবি, মমতাকেও নিশানা, তবে কি এই ভিডিওর আড়ালে আরও বড় রাজনৈতিক খেলা লুকিয়ে রয়েছে, কি জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? 

তবে ইস্তেহার শুধুমাত্র এই দুই ঘোষণায় থেমে নেই। কৃষকদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’-র অঙ্ক বাড়িয়ে বছরে ৯০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করে তার পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো, সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা, এমনকি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক অনুদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভাতার পাশাপাশি উন্নয়নের কথাও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই ঘোষণাগুলির পর স্পষ্ট, বাংলার ভোট এবার ‘ভাতা বনাম ভাতা’-র লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের চালু প্রকল্প, অন্যদিকে বিজেপির বাড়তি প্রতিশ্রুতি, দুইয়ের মধ্যে তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভোটারদের। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে? আর সবচেয়ে বড় কথা এই বিপুল আর্থিক প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় সংশয়।

RELATED Articles