আগামীকাল, ২৬শে নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম ও কৃষি আইনসহ ‘জনস্বার্থ নীতির’ বিরুদ্ধে দেশের ১০ শ্রমিক সংগঠন সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু এই ধর্মঘটে সামিল হতে আপত্তি জানিয়েছে ভারতীয় মজদুর সংঘ। গতকাল একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার সম্পাদক আইনজীবী অসীম পরামানিক বলেন, এই ধর্মঘট সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, শ্রমিক ইউনিয়নের এই ধর্মঘট ব্যর্থ হবেই।
রাজ্যের ১৬টি বামপন্থী ও সহযোগী দল, কৃষি ও খেতমজুর সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটে সামিল হবে। দেশের বিভিন্ন বড় বড় শ্রমিক সংগঠন এই ধর্মঘটে যোগ দিলেও, কেন্দ্র সরকার নিয়ন্ত্রিত শ্রমিক সংঘ বিএমএস এই ধর্মঘটে যোগ দেয় নি। এই নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নগুলিতে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অসীম পরামানিক জানান, সিআইটিইউ, এআইটিইউসি-এর মতো শ্রমিক সংগঠন এই ধরঘতে যোগ দিলেও, তাদের আসল উদ্দেশ্য শ্রমিকেরা নন। এই ধর্মঘটকে ঢাল করে শুধুমাত্র কেন্দ্রবিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধর্মঘটকে সামনে রেখে ২১-এর বৈতরণী পার হতে চাইছে তারা। তবে তাদের এই ধর্মঘট কোনওভাবেই সফল হবে না বলে জানিয়েছেন অসীমবাবু। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ লোক চিনে গেছে, তারা এই ধর্মঘট সফল হতে দেবেন না।
তার কথায় এই রাজ্যে শ্রমিকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া না, ১০০-১৫০ টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে আজ, বুধবার ভারতীয় মজদুর সংগঠন দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সামনে বিক্ষোভে সামিল হবে। এই বিক্ষোভে যোগ দেবেন প্রায় ৫০০০ শ্রমিক।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শাসকদলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন অসীমবাবু। তৃণমূল নেতা সৌগত রায় সৌরভ গাঙ্গুলি সম্পর্কে যে বিদ্রূপ মন্তব্য করেছেন, তারও তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তার অভিযোগ, “সৌরভ গাঙ্গুলি আজ নিজের চেষ্টায় এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি রাজনীতিতে যোগ দেবেন কী না, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আঙুল যদি তুলতে হয় তবে রাজ্যের ‘ভাইপো’-এর দিকে আঙুল তুলুন। তিনি কী করে একটি সাধারণ হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে আজ ৪-৫টা ব্যবসা ও বিদেশেও ব্যবসা ফেঁদে ফেললেন, তা আগে সৌগতবাবু খোঁজ নিয়ে দেখুন। সৌরভ গাঙ্গুলিকে এরূপ অপমান মানে গোটা বাংলা জাতি, গোটা বাংলার অপমান”।
এদিন শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করে অসীমবাবু বলেন, “শুভেন্দুবাবু আজ কেন দলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। এখন হঠাৎ দলের দুর্নীতি তার চোখে পড়ছে? গত দশ বছর ধরে কী তিনি ঘুমোচ্ছিলেন?” তার বক্তব্য, শুভেন্দুবাবু বুঝে গেছেন যে ২১-এর ভোটের পর তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না, তাই তিনি এখন নিজে বাঁচতে দল ছাড়তে চাইছেন। বিজেপিই বাংলায় ক্ষমতা গড়বে বুঝতে পেরে এখন তিনি এদিকেই ঝুঁকতে চাইছেন।






