মনের ইচ্ছা থাকলেই যে কোনও পরিস্থিতি যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুই হাতই অচল তার। কথাও ঠিকমতো ফোটে না। কিন্তু তাতে কী! এর জন্য কী আর জীবন থেমে থাকে। ঠিক শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বাম পা দিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে খেরোয়াল হেমব্রেম।
কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
পুরুলিয়ার অযোধ্যার আড়শা ব্লকের কলবনী গ্রামের বাসিন্দা খেরোয়াল হেমব্রেম। জন্মের মাত্র কয়েকদিন পরই জন্ডিসের শিকার হয় সে। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন অকেজো হয়ে যায় ওই বালকের। দুই হাতই অচল হয়ে তার। কথাও ঠিকঠাক বলতে পারে না সে। ১৬ বছর ধরে চলছে তার কঠিন সংগ্রাম। কিন্তু নিজের শারীরিক অক্ষমতাকে কোনওদিনই নিজের পড়াশোনার মাঝে আসতে দেয় নি খেরোয়াল। কষ্টসাধ্য করেও চালিয়ে গিয়েছে পড়াশোনা।
নাবালকের এই মনের জোর দেখে মুগ্ধ তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সকলে। জঙ্গলমহলের আড়ষা ব্লকের সিরকাবাদ হাইস্কুলের এই আদিবাসী ছাত্র। দিনরাত এক করে চালিয়ে গিয়েছে সে পড়াশোনা। এবার তার পালা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ মাধ্যমিক দেওয়ার।
তার পরীক্ষা কেন্দ্র স্বামী শ্রদ্ধানন্দ বিদ্যাপীঠ।এই স্কুলের হোস্টেল থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে খেরোয়াল। একদিন আগেই হোস্টেলে আসে সে। তার যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, এর জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কোনও রাইটার না নিয়ে নিজের বাম পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক দিচ্ছে খেরোয়াল। পরীক্ষা কেন্দ্রে তাকে ৪৫ মিনিট সময় অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা দিতে পেরে বেজায় খুশি ওই পড়ুয়া।
পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বিজয় কুমার মণ্ডল বলেন, “ওর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাটিতে বসে যাতে ও ভাল করে পরীক্ষা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা হয়েছে। হস্টেল থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওর জন্য ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে”।
খেরোয়ালের বাবা অজিত হেমব্রমের কথায়, “ছোটো থেকেই ওর অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু ঠিক হয়নি। হাত তো অচল। ঠিক মতো কথাও বলতে পারে না। কিন্তু ও হার মানেনি। পরীক্ষার জন্য দিন রাত পড়েছে। এবার দেখা যাক কেমন রেজাল্ট হয়”।
এদিকে নিজের ফলাফল নিয়ে বেশ আশাবাদী খেরোয়াল নিজে। বলছে, “প্রস্তুতি ভালোই রয়েছে। পরীক্ষা দিচ্ছি। এবার দেখা যাক কেমন ফল হয়”।






