যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাতে নিগ্রহ হতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য-সহ কর্মসমিতির সদ্যসদের। সেই প্রতিবাদেই অরবিন্দ ভবনের সামনে ধর্নায় বসেন যাদবপুরের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, ও অন্যান্য অধ্যাপকরা। পড়ুয়াদের এমন আচরণের এবার তীব্র নিন্দা করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
কী বলেন শিক্ষামন্ত্রী?
গতকাল, বৃহস্পতিবার রাজ্যের সব স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের নিয়ে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সেখানেই যাদবপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেন, “যাদবপুরে কী ঘটছে, তা আমি ভাষা-ভাষা শুনেছি। গণমাধ্যমে দেখলাম। ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করতে পারেন, কিন্তু অধ্যাপককে তুই তোকারি করা বা চার অক্ষরের কথা বলা কখনও আন্দোলনের রাস্তা হতে পারে না। আমরাও ছাত্র বয়সে আন্দোলন করেছি। অনেক অধ্যাপকের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছি। কিন্তু কোনও অধ্যাপককে তুই তোকারি করে প্রকাশ্যে সম্বোধন করা… এটা আন্দোলনের জন্য দরকারি বলে মনে করি না”।
যাদবপুরের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, সব ছাত্র স্নেহের যোগ্য নয়। তাঁর স্পষ্ট কথা, “এটা ঠিক সব শিক্ষককে যেমন শ্রদ্ধা করা যায় না, তেমন সব ছাত্রকেও স্নেহ করা যায় না। সবাই স্নেহেরও যোগ্য নন। এটা অনভিপ্রেত”।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চিত্র দেখা গিয়েছে, তা নজিরবিহীন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্নায় অবস্থান করছেন উপাচার্য, অধ্যাপকরা। সেখানে শুয়েই নানান নথি ঘাঁটতে দেখা গেল উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কর্মসমিতির বৈঠক চলাকালীনই ঝামেলা শুরু করে পড়ুয়াদের একাংশ। নানান দাবী তুলতে থাকে তারা। শুরু হয় অশান্তি। একটানা স্লোগান দিতে থাকে পড়ুয়ারা, এমনটাই অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই রাত দুটো নাগাদ অরবিন্দ ভবনের বাইরে অবস্থানে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য, সহ উপাচার্য, ডিন-সহ একাধিক অধ্যাপক, কর্মসমিতির সদস্যরা।
তাদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুতে র্যাগিং অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ, একদল পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। পড়ুয়াদের এই ভূমিকার বিরোধিতা করে রাতভর অবস্থানে বসেন তারা।






