শিক্ষার্থীকে ধাক্কা মারল শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি? ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ, বিজেপির তীব্র আক্রমণ!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক চলছিল, যা সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে আরও তীব্র হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপস্থিতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে এবং প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। এই নিয়ে উপাচার্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ছাত্রদের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির মুখপাত্র সমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই সরকার শিক্ষাক্ষেত্রের পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ। যাদবপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” অন্যদিকে, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা বলেন, “কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।”

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে চলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং এক ছাত্রকে ধাক্কা মারে, যার ফলে তিনি আহত হন। ঘটনায় আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তৃণমূলের শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মন্ত্রীদের অহংকার এতটাই বেড়ে গেছে যে, তারা সাধারণ ছাত্রদের ওপর গাড়ি তুলে দিতেও পিছপা হন না।”

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি এক ছাত্রকে ধাক্কা মারে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা প্রতিবাদে সরব হন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, “প্রাথমিক তদন্তের পর মন্ত্রীর গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।” যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মন্ত্রীর গাড়ি কোনও শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়নি, এটি বিরোধীদের ষড়যন্ত্র।

আরও পড়ুনঃ হিন্দু সমাজে বিভাজন না ঐক্যের খেলা? বিধানসভা ভোটের আগে RSS-এর বার্তা ঘিরে চরম বিতর্ক!

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “একজন শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি যদি শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রদের সুরক্ষার বিষয়ে কতটা উদাসীন।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “এই ঘটনা রাজনৈতিক চক্রান্ত। শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এসব করা হচ্ছে।” ইতিমধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles