‘এত হিংসা হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়াই উচিত’, পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তি নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের, দেওয়া হল সিবিআই তদন্তের নির্দেশও

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শুরু থেকেই নানান অশান্তির খবর সামনে এসেছে। ভোটের আগেই এমন অশান্তির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। সেই কারণে তাঁর মন্তব্য, “এত হিংসা হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া উচিত”। মনোনয়ন জমা, এমনকি প্রতীক নির্ধারণ হয়ে যাওয়ার পরও মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী ওয়েবসাইটে কয়েকজন প্রার্থীর নাম নেই। সেই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন সেই প্রার্থীরা। সেই মামলার তদন্তে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন উলুবেড়িয়ার কাশ্মীরা বিবি ও ওমজা বিবি। কিন্তু স্ক্রুটিনি পর দেখা যায় ওয়েবসাইটে তাদের নাম নেই। উলুবেড়িয়ার ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-র কাছে অভিযোগ জানান তারা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ওই দুই প্রার্থীর অভিযোগ, তারা কাস্ট সার্টিফিকেট জমা করলেও বিডিও রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করেন নি।

এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই প্রার্থীরা। বিডিও-র বিরুদ্ধে নথি বিকৃত করার অভিযোগেই এবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আগামী ৭ই জুলাই এই তদন্তের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারি আদিকারিকের বিরুদ্ধেই যেখানে অভিযোগ উঠেছে, তাই পুলিশ বা সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত করানো যাবে না। সেই কারণেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ।

এদিন মামলাকারীদের আইনজীবী মনোনয়ন পর্বে সন্ত্রাস ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার চাপ দেওয়ার ঘটনার কিছু নথি পেশ করেন। তা দেখে বেশ ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি বলেন, “সামান্য পঞ্চায়েত নির্বাচনেই যদি এত রক্তপাত, এত হিংসার ঘটনা ঘটে, তাহলে এই ভোট করানোর প্রয়োজন কী? ভোট বন্ধ করে দেওয়া হোক। এটা রাজ্যের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জার”।

মামলাকারীদের তরফে আদালতে উল্লেখ করা হয়, ১৯ তারিখ পর্যন্ত প্রার্থীদের নাম তালিকায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০ তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে সাইটে আর তাঁদের নাম দেখা যাচ্ছে না। সেটা কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্নই তোলেন মামলাকারীদের আইনজীবী।

এদিন আবার ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের কয়েকজন প্রার্থী জানান যে তারা মনোনয়ন জমা দিতেই পারেননি। বিচারপতি এই প্রেক্ষিতে বলেন,যদি আইন – শৃঙ্খলার এই অবস্থা হয় যে প্রার্থীরা সময় মতো মনোনয়ন পেশ করতে পারছেন না, তাহলে তাঁদের অতিরিক্ত সময় তো দিতেই হবে”।

আরও অন্যান্য খবর