পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নানান সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা প্রতি ১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল নির্বাচন কমিশনারকে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে হবে কমিশনকে। এদিন নির্বাচন কমিশনারকে তোপ দেগে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম বলেন, “ভোটের কাজের চাপ সামাল দিতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। রাজ্যপাল নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবে”
গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে পঞ্চায়েত ভোটে গোটা রাজ্যে মোতায়েন করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দেয়। এরপর রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে রাজি হতেই হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে। কিন্তু তিনি জানান প্রতি জেলায় ১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এর প্রতিবাদে বিজেপি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করে।
সেই মামলাতেই আজ, বুধবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। আদালতের কথায়, “২০১৩ সালে যে পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন ছিল, তার থেকে কম বাহিনী চাইলে হবে না। বরং তার থেকে বেশি চাইতে হবে, কারণ এখন জেলার সংখ্যা বেশি”।
এই মামলায় প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের পর্যবেক্ষণ, “কমিশন আদালতের আগের নির্দেশকে মান্যতা দেয়নি। কমিশন মূল্যায়নের কাজ সততার সঙ্গে এবং নিরপেক্ষভাবে করবে বলে আদালত আশা করে। কেন কমিশন স্বতন্ত্রভাবে কেনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট নয়”।
কমিশন যে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে, তা পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। এদিন প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “১৭০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত হবে? নাকি ৮০ হাজার হবে? নাকি ৮ লাখ বাহিনী লাগবে? এটা ঠিক করা কি আদালতের কাজ? আমরা তো কমিশনের ওপরই মূল্যায়নের কাজ ছেড়েছিলাম। কিন্তু তারা অযথা বিষয়টি দীর্ঘায়িত করেছে। তাই সব জেলায় বাহিনী দিতে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। আদালতের উদ্দেশ্য ছিল গোটা পর্বের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি”।
শুধু তাই-ই নয়, ভোটের মাত্র দুদিন আগে অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ কেন আসবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “আমাদের কি কমিশনকে সন্দেহ করতে হবে? চাপ রাখতে না পারলে ছেড়ে দিন, রাজ্যপাল নতুন কমিশনার নিয়োগ করবেন”।
কমিশনের তরফে কেউ আদালতে আসেন না, এমনও অভিযোগ করেন এদিন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মন্তব্য, “খুব দুর্ভাগ্যজনক। তারা কি এত ব্যস্ত! ছেড়ে দিন আমরা নিজেরাই নির্দেশ দিচ্ছি। কোনও রাজ্যের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, কমিশনেরই দায়িত্ব। সব শোনার পর এটা বুঝতে পারলাম আমাদের নির্দেশ কার্যকর হয়নি”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার