অঙ্কিতার চাকরিটাই পাবেন বঞ্চিত হওয়া ববিতা, পাবেন ৪৩ মাসের বেতনও, নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর স্কুল শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার সেই চাকরি পাবেন মামলাকারী ববিতা সরকার। এমনকি অঙ্কিতা প্রথম দফায় তাঁর যে বেতনের টাকা ফেরত দিয়েছেন, সেই টাকা ববিতাকে ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর এসএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন ববিতা সরকার। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ওয়েটিং লিস্টে নাম ছিল ববিতার। সাধারণত প্যানেল লিস্টে থাকা কর্মপ্রার্থীদের চাকরি হওয়ার পর ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরি প্রার্থীদের পালা আসে। সেই আশাতেই ছিলেন শিলিগুড়ির কোর্ট মোড়ের বাসিন্দা ববিতা সরকার।

কিন্তু সেই চাকরি আর পান নি ববিতা। এরই মধ্যে তালিকা প্রকাশের দাবীতে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে দেখা যায় ববিতা সরকারের নাম রয়েছে ২০ নম্বরে। কিন্তু দ্বিতীয় কাউন্সেলিংয়ের পর তিনি জানতে পারেন তাঁর নাম ২১ নম্বরে চলে গিয়েছে। আর কোনওভাবে এক নম্বরে পরেশচন্দ্র অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর নাম পৌঁছে গিয়েছে।

এরপরই সুবিচারের চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ববিতা। গোটা বিষয় খতিয়ে দেখে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু স্কুলের চাকরি বরখাস্তই নয়, আদালতের তরফে এও নির্দেশ দেওয়া হয় যে গত ৪৩ মাসের বেতন অঙ্কিতাকে ফেরত দিতে হবে তাও দুটি কিস্তির মাধ্যমে।

সেই মতোই ৭ই জুন কিস্তির টাকা ফেরত দিয়েছেন অঙ্কিতা। এবার আজ, শুক্রবার বিচারপতি জানালেন যে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরিটাই পাবেন ববিতা। যে স্কুলে অঙ্কিতা চাকরি করতেন, সেই স্কুলেই ববিতাকে নিয়োগ করা হবে। এর পাশাপাশি যে টাকা অঙ্কিতাকে ফেরত দিয়েছেন, সেই টাকা এবার তুলে দেওয়া হবে ববিতাকে।  প্রথম কিস্তিতে ৭,৯৬,৪২২ টাকা ফেরত দিয়েছেন অঙ্কিতা।

আদালতের এই নির্দেশে আপ্লুত ববিতা সরকার। তিনি জানান, “বিচারপতি আমার কাছে ভগবানের মতো। আমি কৃতজ্ঞ। আগামী দিনে যাঁরা লড়াই করতে চান তাঁরাও এগিয়ে আসতে পারেন। অঙ্কিতা অধিকারীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কীভাবে তিনি ৬ বছর আগে চাকরি পেয়েছিলেন আর কীভাবে আমি চাকরি পাইনি এটা প্রকাশ্যে এলে ভালো হত”?

কিন্তু এই টাকা দিয়ে কী করবেন ববিতা?

ববিতার কথায়, “টাকার কথা আগে ভাবিনি। তবে এনিয়ে চিন্তাভাবনা করব। কোনও সমাজকল্যাণমূলক, ভালো কাজে টাকা ব্যয় করার চেষ্টা করব”।

RELATED Articles