কয়লা পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত বিকাশকে বিশেষ সুবিধা জেলে, প্রেসিডেন্সির জেল সুপারকে ভর্ৎসনা বিচারপতির, দিলেন জেলে ভরার হুঁশিয়ারিও

অসুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও জেলের হাসপাতালে রাখা হয়েছে কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত বিকাশ মিশ্রকে। এই ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রের ভাই বিকাশ মিশ্র। বিনয় আপাতত পলাতক। বিকাশকে জেলে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে হাইকোর্টে অভিযোগ জানায় সিবিআই। সমস্ত কথা শুনে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে কড়া ধমক দেওয়া হয় প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার দেবাশিস চক্রবর্তীকে। জরিমানার পাশাপাশি তাঁকে কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত বিকাশ মিশ্র তার দাদা বিনয় মিশ্রের সাম্রাজ্যের অনেকটাই সামলাতেন। কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে জড়িত থাকার জেরে বিকাশকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ জানায় সিবিআই। সম্প্রতি সিবিআই হাইকোর্টে অভিযোগ জানায় যে জেলে বিকাশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই তাকে জেলের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  

সিবিআই এও জানায় যে বিকাশকে জেলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে বেশ কয়েক বার বাধা পেয়েছে তারা। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলা ওঠে। শুনানিতে প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করে বেঞ্চ বলে, “প্রেসিডেন্সি জেল রাজ্যের সব থেকে বড় জেল। সেখানে এমন বেআইনি কাজ হয় কী করে”?

জেলের এই অনিয়মের মামলার শুনানিতে আজ, বৃহস্পতিবার আদালত ডেকে পাঠায় প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার দেবাশিস চক্রবর্তীকে। প্রকাশ্যেই তাঁকে এদিন বিচারপতি বলেন, “আপনি বার বার বিকাশকে জেলের সেল থেকে হাসপাতালে পাঠিয়ে বেশ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন বলতে হবে”। কয়লা ও গরু পাচার মামলায় শাসক দলের বেশ কিছু নেতা ও নেতাদের ঘনিষ্ঠদের জেরা করেছে সিবিআই। আর এই দুই মামলাতেই অভিযুক্ত বিকাশ।

এদিন এই প্রসঙ্গে বিচারপতি প্রেসিডেন্সির জেল সুপারকে বলেন, “আপনার কাজে স্পষ্ট, যা করেছেন, তা জেনেবুঝে এবং ইচ্ছা করেই করেছেন। আদালত বিকাশকে জেলে রাখার কথা বলার পরও তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আপনি একজন সরকারি কর্মচারী। আইন মেনে কাজ করা উচিত ছিল। একজন সরকারি কর্মচারীর এমন আচরণ কাম্য নয়”।

আদালতের একথার পর দুই বিচারপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে দেবাশিস বলেন যে তাঁর ভুল হয়েছে। এরপর তাঁকে আরও ভর্ৎসনা করেন বিচারপতিরা। এরপরই আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় যে বিকাশ মিশ্র জেলেই থাকবেন। আর এই বেআইনি কাজের জন্য জেল সুপার দেবাশিস চক্রবর্তীকে ১০ হাজার টাকার জরিমানা করেছে হাইকোর্ট। যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে জেল সুপারকে ৭ দিনের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিচারপতি।

RELATED Articles