সন্ত্রাস, নিখোঁজ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক হত্যার কাহিনি নিয়ে ফের আলোচনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগণার এই জনপদ। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে নিস্তার মেলেনি মৃতদের পরিবারগুলির। আর এবার সেই পুরনো ঘটনাতেই হাই কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের বিতর্কিত নেতা শেখ শাহজাহান।
ভাঙ্গিপাড়া অঞ্চলে ২০১৯ সালের জুন মাসে বিজেপির তিন কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল। দেবদাস মণ্ডল আজও নিখোঁজ। শুধু তাই নয়, ওই সংঘর্ষে নিহত হন এক তৃণমূল কর্মী কায়ুম আলি মোল্লাও। গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে, অভিযোগ দায়ের হয় ন্যাজাট থানায়। অভিযোগের আঙুল ছিল শেখ শাহজাহানের দিকেই। পরে তদন্ত সিআইডি-র হাতে এলেও, চার্জশিটে শাহজাহানের নামই উধাও হয়ে যায়।
প্রদীপ মণ্ডলের স্ত্রী পদ্মা মণ্ডল এরপর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে অনেক প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই যুক্তিতে গুরুত্ব দিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় ৩০ জুন। যদিও সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন শেখ শাহজাহান। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার জানিয়ে দেয়, সিবিআইয়ের নেতৃত্বে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমই (SIT) তদন্ত চালিয়ে যাবে।
এখনই জেল হেফাজতে রয়েছেন শেখ শাহজাহান, রেশন দুর্নীতি এবং ইডি অফিসারদের উপর হামলার মামলায়। তাঁর নামে একাধিক অভিযোগ ও মামলা চলাকালীন এই নতুন খুনের মামলাও যখন ফের সিবিআইয়ের অধীনে গেল, তখন তাঁর উপর চাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। আদালতের এই রায়ের ফলে তাঁকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত আরও জোরদার হবে।
West Bengal : ‘বাজেট নেই’ বলে দায় এড়াতে পারবে না রাজ্য! ডিএ মামলায় ফের কঠোর প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের!
সন্দেশখালিতে বহুদিন ধরেই ‘অঘোষিত শাসক’ হিসেবে পরিচিত শাহজাহান। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা নানা অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব বিরোধীরা। এবার হাই কোর্টের এই রায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও জনমানসে তাঁর অবস্থান ঘিরে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। তদন্তে যদি তাঁর নাম ফের উঠে আসে, তবে পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে।





