অনুব্রতকে বেডরেস্ট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, এবার সেই চিকিৎসকের বাড়িতেই হানা দিল সিবিআই

গত কিছুদিন ধরেই শিরোনামে রয়েছেন বোলপুর হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। গতকাল অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর আজ, শুক্রবার ওই চিকিৎসকের বাড়ি গেল সিবিআই। জানা গিয়েছে, তাঁকে নানান প্রশ্ন করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের অডিও সংগ্রহ করে সিবিআই।

অনুব্রত মণ্ডল এসএসকেএম থেকে বোলপুরে ফেরার পরই তাঁর বাড়িতে গিয়ে চেকআপ করেন বোলপুর হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। তারপরই কার্যত বোমা ফাটিয়েছিলেন। সেই থেকে চর্চায় চিকিৎসক। তাঁকে নিয়ে ধন্য ধন্য করছে গোটা বাংলা। এসবের মাঝেই আজ, শুক্রবার সকালে আচমকাই চন্দ্রনাথ অধিকারীর বাড়িতে যায় সিবিআইয়ের তিনসদস্যের প্রতিনিধি দল।

জানা গিয়েছে, সেই সময় চন্দ্রনাথবাবু বাড়িতেই ছিলেন বলে খবর। প্রায় তিন ঘণ্টা ঘরে অধিকারী বাড়িতে তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেদিন ঠিক কী হয়েছিল, কার নির্দেশে তিনি অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়েছিলেন? এমন নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে ডাঃ অধিকারীকে।

ওই চিকিৎসকের বয়ান সিবিআই আধিকারিকরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি বোলপুরের হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে ওই চিকিৎসকের কথোপকথনের অডিও-ও সিবিআই সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, বোলপুর হাসপাতালের সুপারকেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী ও একজন নার্স গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি। সেখানে তাঁর নানান পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান যে অনুব্রতর বিশ্রামের প্রয়োজন। তাঁকে ১৪ দিনের বেডরেস্ট লেখেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু এর আগের দিনই অর্থাৎ সোমবার এসএসকেএমের চিকিৎসক অনুব্রতর সমস্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন যে অনুব্রতর কিছু ক্রনিক সমস্যা রয়েছে তবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার নেই।

দুই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সন্দেহ উঠতেই বোমা ফাটান চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। বলেন যে বোলপুর হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মুর নির্দেশেই তিনি অনুব্রতর বাড়ি গিয়েছিলেন। এমনকি হাসপাতালের প্যাডও দেওয়া হয়নি তাঁকে। সাদা কাগজে নানান পরামর্শ লিখেছিলেন তিনি। চন্দ্রনাথবাবু এও জানান যে অনুব্রতর নির্দেশেই তিনি তাঁর বেডরেস্টের কথা লিখেছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি বোলপুরেই থাকেন, তাই অনুব্রতর কথা অমান্য করার সাহস পান নি তিনি।

RELATED Articles