Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher: রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো যে ভীষণ খারাপ, এমন নিদর্শন আগেও দেখা গিয়েছে। স্কুল রয়েছে শিক্ষক নেই বা শিক্ষক রয়েছে পড়ুয়া নেই, এমন ঘটনা আগেও সামনে এসেছে। আর এইভাবে ধুঁকতে ধুঁকতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সরকারি স্কুল। স্কুলে শিক্ষক না থাকায় নিচু শ্রেণীর ক্লাস নিচ্ছে উঁচু শ্রেণীর পড়ুয়ারা (Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher), এমনই দৃশ্যের দেখা মিলল রাজ্যের এক সরকারি স্কুলে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংনদিয়া বাংরুয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে সর্বসাকুল্যে ৮১ জন পড়ুয়া রয়েছে। আর শিক্ষক মাত্র ১ জন। পঞ্চম থেকে অষ্টম এই চারটি ক্লাস রয়েছে স্কুলে। ওই একজন শিক্ষকের পক্ষে সব ক্লাস নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব হয় না। এর ফলে বন্ধই থাকত পঠনপাঠন(Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher)।
ওই একজন শিক্ষকের উপরেই রয়েছে মিড ডে মিলের হিসাব ও দেখাশোনার দায়িত্ব। কোনও গ্রুপ ডি কর্মী নেই। ওই শিক্ষককেই এসআই অফিস, ব্লক প্রশাসনের অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হয়। এর ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পঞ্চম শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছে অষ্টম শ্রেণীর ‘দাদা’রা (Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher)। অনেক সময় আবার সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়ারাও নিচু শ্রেণীর ক্লাস নেয়।
জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে চালু হয়েছিল এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রটি। সেইসময় ৬ জন শিক্ষক ছিলেন। ২০০৩ সালে অনুমোদন পাওয়ার পর দু’জন শিক্ষকের বেতন চালু হয়। এরপর ধীরে ধরে বাকি শিক্ষকদেরও বেতন চালু হয়। এক শিক্ষক মারা যান। আর বাকি চার শিক্ষক ধীরে ধীরে অবসর নিয়ে নেন। ২০২২ সাল থেকে একজন শিক্ষকই রয়েছেন আর কোনও নিয়োগ হয়নি এই স্কুলে। কেন স্কুলের এমন বেহাল দশা, পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না, টা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাহানুল হক জানাচ্ছেন, তাঁকে পড়ানোর পাশাপাশি সমস্ত কাজ করতে হয় (Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher)।
স্কুলে ৮১ জন পড়ুয়া থাকলেও নিয়মিত ৩০-৩৫ জনই আসে। পড়াশোনা না হওয়ায় স্কুলবিমুখ পড়ুয়ারা (Class Eight Student Taking Junior Class for Lack of Teacher)। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নিয়ে ক্ষোভ জারি করেছেন। তারা বলেন, “গ্রামে স্কুল হওয়ায় প্রথমে খুব আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু এখন পড়ুয়া থাকলেও শিক্ষক নেই। এভাবে চলতে থাকলে তো একদিন স্কুলটাই বন্ধ হয়ে যাবে”।






