‘আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করার হিম্মত হয় কী করে’, ফের ‘ফোঁস’ হুমায়ুনের, জুনিয়র চিকিৎসকদের হুমকি দেওয়ায় তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে মমতা ও প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ

একবার নয়, দু’বার নয়, বারবার জুনিয়র চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছেন তিনি। দলনেত্রী নিষেধ করা সত্ত্বেও সেকথা কানে তোলেন নি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নিজের কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। লাগাতার এমন হুমকির জেরে এবার ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধান বিচারপতির কাছে। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবীও উঠল।

জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ জানালেন আইএমএ বহরমপুর শাখার সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের কাছেও ইমেল পাঠিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।

আইএমএ বহরমপুর শাখার সম্পাদক মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যাতে অবিলম্বে হুমায়ুন কবীরের বিরদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। তিনি লিখেছেন, “আগে তো একাধিক বার হুমকি দিয়েছেন কিন্তু ২৮ তারিখ করা তাঁর মন্তব্য সব সীমা পার করে গিয়েছে। তিনি বলছেন ৫০ হাজার অনুগামী নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করবেন”।

বলে রাখি, জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “ওদের যেমন আন্দোলন করার অধিকার আছে, বাংলায় তৃণমূলেরও ৩ কোটি ভোটার আছে। ১০ হাজার মাঠে নামলে কী হবে, তখন বুঝবে…”।

তাঁর এমন হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর ফের হুমকি দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক বলেছিলেন, “শুনলাম আমার নামে এফআইআর করেছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, জামিন নেব না। প্রয়োজনে পুলিশ আমাকে অ্যারেস্ট করুক। জেল খেটে বাইরে এসে ৫০ হাজার লোককে সঙ্গে নিয়ে যাব। দেখব, তখন বহরমপুর মেডিকেলের ডাক্তারবাবুরা কী করেন”? এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গেল মমতা ও প্রধান বিচারপতির কাছে।

তৃণমূল বিধায়কের এহেন হুমকির প্রসঙ্গে চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, “সমাজ বিরোধিী সমাজ বিরোধীই থাকে। বিধায়কের হুমকি সেটাই স্পষ্ট করে”। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবী জানান তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকারের কাছে। তাঁর কথায়, “চিকিৎসকরা নিরস্ত্র থাকেন। তাই ৫০ হাজার লোক দরকার নেই, ৫-৬ জন হলেই হামলার জন্য যথেষ্ট। আসলে চিকিৎসকরা সফট টার্গেট, তাই বারে বারে তাঁদের ওপরেই হামলা হয়”।

আরও পড়ুনঃ ‘অভীক-বিরূপাক্ষরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখে নি সরকার…’,বিস্ফোরক জুনিয়র চিকিৎসকরা

হুমায়ুন কবীরের এই হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “গুন্ডা, মস্তান নেতা হয়ে গেলে এরকমই হবে। মালের চেয়ারম্যান ১২০ কোটি টাকার কারচুপি করে এখন ফেরার। পুরো তৃণমূল দলটার অবস্থায় এরকম। এগুলো বন্ধ করতে গেলে পার্টি উঠে যাবে, সরকার চলে যাবে”।

RELATED Articles