বেশ কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া (Weather) বেশ ভালমতো ভুগিয়েছে মানুষকে। একটু রোদ তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই দু-এক পশলা বৃষ্টি মানুষকে রীতিমত নাজেহাল করে দিয়েছে। এখন আবহাওয়া একটু ঝরঝরে হলেও মানুষের মনে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ কিন্তু কাটছে না আর না কাটাই স্বাভাবিক তার কারণ দুদিন বাদে মহালয়া (Mohalaya)! দেবীপক্ষের এই সূচনার সময় কেমন থাকবে আবহাওয়া? এই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে মানুষের মনে।
আর দু’দিন পরেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান হবে, এরপর প্রতিপদ থেকে দেবীপক্ষে সূচনা হবে। মহালয়াতে প্রত্যেকটি মানুষ পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে ঘাটে যান, সেই কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে মহালয়ার দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে? তর্পনের দিন প্রত্যেকে যখন পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে জল তিল দান করবেন, সেদিনও কি বৃষ্টিতে ভিজবে শহর তথা রাজ্য? শনিবার থেকে বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে মহালয়ার সময় আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কেমন থাকবে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানাতে গিয়ে বলেছেন নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেও এখনই পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। কলকাতা থেকে জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা যে নেই, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। দিনের মধ্যে কখনও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে কখনও বা আকাশে থাকবে চড়া রোদ। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আদ্রতাজনিত অস্বস্তি বহাল থাকবে। তবে এই মুহূর্তে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
যদিও পুজোর মধ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা যাবে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বর্তমানে বর্ষার বিদায় পর্ব শুরু হলেও বাংলা থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি করে বর্ষা বিদায় নেবে। অর্থাৎ পুজোতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিম উত্তর প্রদেশে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, আরব সাগর থেকে বিহার পর্যন্ত এই অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখার প্রভাবে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হবে। আরব সাগর থেকে বিহার পর্যন্ত এই অক্ষরেখা বিস্তৃত হওয়ার জন্য বিক্ষিপ্তভাবে স্থানে স্থানে বৃষ্টি হবে।
এর ফল স্বরূপ বুধবার অর্থাৎ মহালয়ার পরের দিন থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভারী বৃষ্টির একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় ৯.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জানা যাচ্ছে তামিলনাড়ু, পন্ডিচেরি, কেরল ও মাহেতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অক্টোবরের শুরু থেকে অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে।





