সামনেই বাঙালির শারদোৎসব। তবে এই বছরের উৎসব অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এই বছরের মন খারাপ কোথাও হয়তো আনন্দের উচ্ছ্বাসকে একটু হলেও ম্লান করে দেবে। কারণ এক অজানা ভাইরাসের আক্রমণে এই বছর প্রাণ হারিয়েছেন বাংলা, দেশ সহ বিশ্বের বহু মানুষ।
মা দুর্গার আগমনেও তাই অন্যান্য বছরের উচ্ছ্বাসের জায়গায় এই বছর উৎকণ্ঠাই বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। আর এই উৎসবের মরশুমে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শারদ উপহার ঘোষণা করলেন বঙ্গবাসীর জন্য।
বাংলায় বেসরকারি জায়গায় করোনা পরীক্ষার খরচ কমে গেল অনেকটাই। বর্তমানে কোনও বেসরকারি ল্যাবরেটরি বা প্যাথলজিক্যাল সেন্টারে করোনা পরীক্ষা করতে খরচ পড়ে ২২৫০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা পরীক্ষা রেট কমিয়ে আনা হল ১৫০০ টাকায়। এই সিদ্ধান্তকেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর শারদ উপহার বলেই উল্লেখ করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Alapan bandyopadhyay) বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দফতর এবং কলকাতা পুরসভা বিনামূল্যে নিঃশর্তে রাজ্যের সকল কোভিড রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেয়। যে কোনও রোগী স্বাস্থ্যভবন বা কলকাতা পুরসভায় ফোন করে যে কোনও হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে কোভিড চিকিৎসার জন্য আসতে–যেতে নিখরচায় সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পান বা পেতে পারেন। তবুও কিছু মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম বা অন্য সংস্থার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেন। সে ক্ষেত্রেও অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া কমানো দরকার বলে মনে করে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি কমিশনের কাছে অনুরোধ করছে, অবিলম্বে পুজোর আগেই এই সব বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া একটা ন্যায্য সহনশীল স্তরে নামিয়ে আনা হোক।’
একইসঙ্গে আজ বাংলার দুর্গাপুজো ও করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু বড় ঘোষণা করা হয় নবান্ন সভাঘরে। মন্ত্রীসভার সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মধ্যে অন্যতম কোভিড পরীক্ষার খরচ কমানো। তা ছাড়াও এদিন রাজ্যের পক্ষ থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া কমানোর আবেদন জানানো হয়।





