ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন বাম প্রার্থী তথা বর্ষীয়ান নেতা অশোক ভট্টাচার্য। এই প্রথম স্ত্রীকে ছাড়া ভোট দিতে আসেন তিনি। প্রয়াত স্ত্রীর কথা মনে করে চোখে জল চলে আসে অশোকবাবুর।
প্রতিবার স্ত্রীকে নিয়েই ভোট দিতে আসেন অশোক ভট্টাচার্য। কিন্তু গত বছর প্রয়াত হন তাঁর স্ত্রী রত্না ভট্টাচার্য। এদিন তাই ভোট দিতে এসে বারবার স্ত্রীয়ের কথাই মনে পড়ছে তাঁর। এদিন তিনি এও জানান যে মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে। এমন ভাবে চললে বামেরা ভালো ফল করবে বলে আশাবাদী বাম নেতা।
আজ, শনিবার দুপুর ১২ টায় শিলিগুড়ি নেতাজি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিতে যান অশোক ভট্টাচার্য। তিনি নিজে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী। তবে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার অশোকবাবু। এদিন ভোট দিয়ে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
এদিন শুরুতেই তিনি বলেন, “এই প্রথম একা ভোট দিতে এলাম”। একথা বলতে গিয়েই গলা বুজে আসে অশোকবাবুর। চোখে জল চলে আসে বর্ষীয়ান নেতার। তিনি জানান যে প্রয়াত স্ত্রীর ছবিতে মালা দিয়েই তিনি ভোট দিতে এসেছেন। রত্নাদেবীর কথা স্মরণ করে অশোকবাবু বলেন, “ও থাকলে খুব খুশি হত। একসঙ্গে ভোট দিতে আসতাম”।
এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে শিলিগুড়িতে পুরভোট নিয়ে অশোকবাবু জানান যে মোটের উপর বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে সেখানে। তাঁর কথায়, শিলিগুড়ির এক্তান ঐতিহ্য রয়েছে। কলকাতার মতো এখানে বহিরাগতদের দাপাদাপি নেই সেখানে, এমনটাই জানান অশোকবাবু।
তিনি বলেন, “এই পরিবেশ যদি বজায় থাকে, তাহলে সিপিএম জিতবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরবোর্ড গঠন করবে”। তৃণমূলের বিরুদ্ধে খাবার বিলি করার যে অভিযোগ শিলিগড়িতে উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে অশোকবাবু বলেন, “খাবার বিলি, টাকা বিলি করবে, এ সব তো ধরেই নিয়েছি। তাই বলে, বুথ দখল যেন না হয়”।
উল্লেখ্য, অশোক ভট্টাচার্য ১৯৯১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত শিলিগুড়ির বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। ২০১১ তে বিধানসভা ভোটে হারার পরও ২০১৬-এর বিধানসভায় শিলিগুড়ি থেকে জিতেছিলেন তিনি।





