ধেয়ে আসছে ‘অশনি’! রবিবারই তীব্র বেগে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়, দক্ষিণবঙ্গের নানান জেলায় জারি সতর্কতা

রবিবার থেকেই ফের আবহাওয়া বদলাতে শুরু করবে। ক্রমেই চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণাবর্তের গতিপ্রকৃতি দেখে প্রাথমিকভাবে তেমনটাই মনে করছেন আবহবিদরা।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে যে দক্ষিণ আন্দামানে যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হাওয়া অফিসের মতে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়, ততক্ষণ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। এখন আবহবিদদের নজর রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতির দিকেই। এই ঘূর্ণিঝড় যদি আছড়ে পড়ে, তাহলে তার নাম হবে ‘অশনি’।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কথায়, আগের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বর্ষার আগে মে মাসে সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। এই কারণে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। উপকূলবর্তী এলাকা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলীতে সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বাড়বে তাপমাত্রা। বজায় থাকবে অস্বস্তি। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ১ থেকে ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়বে। আর্দ্রতাজনিত আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে নতুন করে তাপপ্রবাহের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গিয়েছে।

এক সংবাদমাধ্যমে আবহবিদ সুজীব কর জানান, “কলকাতায় ঝড়-বৃষ্টি হবে। ব্যাপক পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হবে না। সবে সাইক্লোনটা তৈরি হয়েছে। এখনও ২৭০০ কিমি দূরে রয়েছে। এত আগে আন্দাজ করা মুশকিল। কলকাতায় ঝড়ের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে”।

এই বিষয়ে IMD-র ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, “ল্যান্ডফল নিয়ে এখনও পূর্বাভাস নেই। কোন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।সাধারণত দুটি সময়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। একটা প্রাক বর্ষার সময়, অর্থাৎ, মার্চ-এপ্রিল-মে। আরেকটা বর্ষার পর, অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর। বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড় হয় মে মাসে ও নভেম্বরের মধ্যে। মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না”।

RELATED Articles