সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা সাংবাদিক। সেই ঘটনায় তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে সিপিএম। দলের তরফে স্পষ্ট বার্তা, এমন আচরণের কোনও ক্ষমা নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানান কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে লাল পার্টির দিকে। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন তৃণমূলের আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
গতকাল, রবিবার এক মহিলা সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে জানান, সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় সিপিএম নেতা দুর্ব্যবহার করেন তাঁর সঙ্গে। তাঁর কোলে বসে পড়েন তন্ময় ভট্টাচার্য, এমনটাই অভিযোগ মহিলা সাংবাদিকের। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তন্ময়বাবুকে দল থেকে সাসপেন্ড করে সিপিএম।
সেই ঘটনায় তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “সুশান্ত থেকে তন্ময়, সিপিএম মাত্রই পটেটো প্রবলেম। সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলেন এক মহিলা সাংবাদিক! ভাবতে লজ্জা লাগে এঁরাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল (আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার বিচার চেয়ে)! ছিঃ! ছিঃ”! এরপরই তিনি পোস্ট করেন, “কোল দখল করা তন্ময় ভট্টাচার্যের শাস্তির জন্য রাত দখল করবেন তো ওই শিল্পীরা”?
তাঁর এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি তন্ময় ভট্টাচার্য তো বটেই, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষকেও যে বিঁধেছেন, তা বেশ স্পষ্ট। আসলে কয়েকমাস আগেই সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এক মহিলার সঙ্গে সহবাস করেছিলেন। ২০০৬ সালের ঘটনা সেটি যখন সুশান্ত ঘোষ রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। যদিও সুশান্তের ঘনিষ্ঠদের দাবী, গোটাটাই চক্রান্ত। ২০০৬ সালে এই ঘটনা ঘটলে সেই অভিযোগ মহিলা কেন ২০২৪ সালে তুললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় থেকে আচমকাই উধাও তিলোত্তমার মূর্তি, কোথায় গেল সেই মূর্তি ? থানায় অভিযোগ দায়ের
এবার তন্ময় ভট্টাচার্যও যদিও তেমনই দাবী করেছেন। তাঁর কথায়, তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর দাবী, ওই মহিলা সাংবাদিক সকালে এসে ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে তাঁর ইন্টারভিউ নেন। সেই সময় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তিনি ইন্টারভিউ নিতে অস্বীকার কেন করলেন। তিনি এও দাবী করেন, তাঁর বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিট দূরত্বেই বরানগর থানা। তাহলে থানায় না গিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন অভিযোগ তুললেন। এমনকি, শ্লীলতাহানির সময় ক্যামেরাপার্সনই বা কিছু কেন বললেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বামনেতা।






