বিধাননগর পুরসভার নিউটাউন এলাকার কাউন্সিলর এবং গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সূত্রে খবর, তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির খোঁজ করতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই কারণেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে এবং নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা দেবরাজের বাড়ি ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান। বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে উল্লেখযোগ্য টাকা না থাকলেও, গত মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার একটি বড় আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভোটের আগে ও পরে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ আদানপ্রদানের ইঙ্গিত মিলেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভোটের সময় এবং ফল ঘোষণার পরেও দেবরাজের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন জায়গায় বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থের উৎস, কোথায় গিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতেই সিটের আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করেছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সমস্ত ব্যাঙ্ক নথি ও আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ শেষ হলে এই লেনদেনের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।
তবে তদন্তে একটি বিষয় এখনও স্পষ্ট হয়নি। দেবরাজ চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিললেও, তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেন এমন পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, সেই বিষয়টিও এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই দিকটি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপের আচমকা শক্তিবৃদ্ধি! রবিবার কি কার্যত জলমগ্ন হতে চলেছে কলকাতা? দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে বাড়ল উদ্বেগ!
শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, দেবরাজের সম্পত্তির হিসাব নিয়েও তদন্তকারীদের নজর রয়েছে। সিট সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এর বড় একটি অংশ হিসাববহির্ভূত অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে, বিশেষ করে জমি কেনার ক্ষেত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধার হওয়া নথি এবং জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও এগোচ্ছে। আধিকারিকদের মতে, সামনে আরও সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।






