‘এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শকুনরা আখের গোছাতে চাইছে’, আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদেও রাজনীতি টানলেন দেব, রাজনৈতিক শকুন বলতে বিরোধীদের নিশানা?

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব গোটা রাজ্য-সহ দেব। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সকল স্তরের মানুষ। দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী উঠেছে। এরই মধ্যে এবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তারকা-সাংসদ দেব।    

গত শনিবার আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। সেখানেই আর জি কর কাণ্ড নিয়ে নিজের মতামত জানান দেব। বলেন, “এই আন্দোলন শুধু আরজি কর নিয়ে নয়। ভারতের প্রত্যেকটা মেয়ে যাতে নিরাপত্তা পায় তার জন্য আন্দোলন। এর একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেটা হল যারা ধর্ষণ করবে, তাদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমি দেখছি, আমি দেখতে পাচ্ছি আন্দোলনটা গতি হারাচ্ছে, তার কারণ আমরা রাজনৈতিক ভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছি। এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির শকুনেরা তাদের উদ্দেশ্যপূরণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে”।

রাজনীতির শকুন বলতে কাদের নিশানা করলেন দেব? তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই আর জি কর ঘটনার প্রতিবাদে আলাদা আলাদা করে প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেস। তাহলে কী বিরোধীদেরই ‘রাজনীতির শকুন’ আখ্যা দিলেন তৃণমূলের তারকা-সাংসদ। এমন কথা বলে কী তাহলে দেব আসলে নিজের দলের পক্ষের কথা বললেন, উঠেছে প্রশ্ন।  

এদিন তিনি আরও বলেন, “দশ এগারো বছর রয়েছি রাজনীতিতে। আমি কোনও দিন এমন কোনও কথা বলিনি, যাতে মনে হবে আমি শুধু আমার দলকে সাপোর্ট করেছি। বা অন্য দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। বরং যা হয়েছে সেটাই ঠিকঠাক বলেছি। আমি আজ এ কথা বলছি, তার কারণ, আমি দেখতে পাচ্ছি আন্দোলনটা গতি হারাচ্ছে, তার কারণ আমরা রাজনৈতিক ভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছি। তাই বলব, যাঁরা এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা দয়া করে আন্দোলনটা আরও এগিয়ে যান। আমি আপনাদের পক্ষে”।

আরও পড়ুনঃ নবান্ন অভিযানে হিংসার ছক, প্রমাণ-সহ তথ্য পুলিশের হাতে, অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় ২ বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার, কী হতে চলেছে নবান্ন অভিযানে? 

দেবের কথায়, “আমি ১১ বছরে কোনও রাজনৈতিক বিবৃতি দিইনি। তবে এখন এই প্রথম আমি রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছি। যে সরকার ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। যারা এক রাতে নোটবন্দি আনতে পারে। যারা কাশ্মীরে ৩৭০ ধারাকে দমন করতে পারে। যে ভারত সরকার যেখানে বাবরি মসজিদ হয়েছিল, সেখানে রামমন্দির করতে পারে। যে ভারত সরকার ২০০০ টাকার নোট আবার ফিরিয়ে নিতে পারে, সেই ভারত সরকার যারা ইডির নিয়ম বদলে দিতে পেরেছিল, সংবিধান বদলে আইন বদলেছিল, সেই ভারত সরকারকে আমার অনুরোধ এখনই এমন একটা বিল পাশ করুন সংসদে, যেখানে কোনও ধর্ষক যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তবে এক মাসের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে। তবেই আমার দেশটা শুধরোবে। শুধরোবে শব্দটা ব্যবহার করছি। তার কারণ, মানুষ শুধরোচ্ছে না। এত আন্দোলন হচ্ছে তার মধ্যেও ধর্ষণ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, কেউ ভয় পাচ্ছে না”।

RELATED Articles