আর জি করের ঘটনা নিয়ে তো তোলপাড় ছিলই রাজ্যে। এবার তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া সেমিনার রুমে গিজগিজে ভিড়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই, এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছিল। এবার এই ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে সাফাই দিতে মাঠে নামল লালবাজার। তাদের কথা অনুযায়ী, সেমিনার রুমে ৪০ ফুট কর্ডন করেছিল পুলিশ।
গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাঁকে। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সকল স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল, সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর নাকি সেখানে নানান ঘটনা ঘটেছে। ক্রাইম সিন বদলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
আর এরই মধ্যে আজ, সোমবার ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। যাতে দেখা যায়, যে সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়, সেই সেমিনার রুমেই সেই সময় লোকজনের ভিড়। একাধিক লোকজনকে সেমিনার রুম থেকে বেরোতে ও ঢুকতে দেখা যায়। যে রুম থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই ঘটনাস্থল সঙ্গে সঙ্গে সিল করে দেওয়ার কথা পুলিশের। কিন্তু কেন পুলিশ সেটা করে নি। কেন সেমিনার হলে লোকজনের প্রবেশ বা ভিড়ের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না পুলিশের, এমন প্রশ্নও উঠছে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই এবার ভিডিও নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এই ভিডিও সম্পর্কে বলেন, “একটি ভিডিও প্রকাশ্য আসতেই তথ্য লোপাটের অভিযোগ সামনে আসছে। কিন্তু বাস্তবটা হল, ৫১ ফুটের ওই সেমিনার রুম। যেখানে দেহ পাওয়া গেছে,তাকে ঘিরে ৪০ ফুট সঙ্গে সঙ্গেই কর্ডন করে দিয়েছিল পুলিশ। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যে ভিড়টা দেখা যাচ্ছে তা বাইরের ১১ ফুটের মধ্যে। তাই তথ্য লোপাটের আশঙ্কা একেবারে অমূলক”।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই সেমিনার রুমে সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ অনেকেই ছিলেন। ছিলেন ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসক দেবাশিস সোম, ছিলেন প্রসূন চট্টোপাধ্যায় আর ছিলেন সন্দীপের আইনজীবী শান্তনু দে। একজন আইনজীবী ক্রাইম সিনে কী করছিলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
শান্তনু দে কেন সেখানে ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) জানান, এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাব দিতে পারবে। এই প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে নেই। তাহলে কী কোনও প্রমাণ লোপাটের জন্যই সেমিনার রুমে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন শান্তনু দে, উঠছে প্রশ্ন!





