এর আগে তিনি দাবী করেছিলেন যে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সিবিআইয়ের (CBI) সেটিং হয়ে গিয়েছে। তাঁর সেই মন্তব্য যে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য। রবিবার এক সভায় উপস্থিত থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) দাবী করেন যে সিবিআইয়ের সঙ্গে বাংলার সেটিং হয়েছে। সেই কারণ অর্থমন্ত্রক ইডিকে (Enforcement Directorate) তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এবারও নিজের সেই মন্তব্যেই অনড় থাকলেন বিজেপি সাংসদ।
আজ, সোমবার নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সিবিআই দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু ন্যায় পাইনি। ভোটের পর আমাদের ৬০ জন কর্মী মারা গিয়েছেন। কোর্ট বলেছিল সিবিআইকে, তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু সিবিআই তো এফআইআরই দায়ের করতে পারল না। তুলনায় ইডি অনেক ভাল কাজ করেছে। প্রমাণ করে দিয়েছে, তারাই সবচেয়ে বিশ্বস্ত এজেন্সি”।
বলে রাখি, গতকাল, রবিবার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত হলেও এফেক্ট পড়ছিল না। গত কয়েক বছর ধরে বাংলায় সিবিআইয়ের সঙ্গে সেটিং করা হচ্ছিল। অর্থমন্ত্রক বুঝতে পেরে ইডিকে পাঠিয়েছে”। ইডির তদন্ত নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন খড়গপুরের বিজেপি সাংসদ।
তাঁর সংযোজন, “ইডি পোষ মানবে না, কামড়াবে। যারা সেটিং করেছে তাঁরাই এখন ইডির তদন্ত নিয়ে আপত্তি করছে। আদালতে যাচ্ছে। প্রশ্ন করছে, কেন ইডি তদন্ত করবে”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিবিআই সম্পর্কে এহেন মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপমান ও সংস্থার উপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বিজেপি সাংসদ। কিন্তু দিলীপ ঘোষ নিজের মন্তব্য থেকে একচুলও সরতে কিন্তু নারাজ।
দিলীপের এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “দিলীপদা কহি পে নিগাহে, কহি পে নিশানা করলেন না তো? কোথাও শুভেন্দুর সঙ্গে সিবিআইয়ের সেটিং করে গ্রেফতারি এড়ানোর প্রশ্ন তুলে দিলেন না তো”।
দিলীপ ঘোষের সিবিআইয়ের উপর অনাস্থার ঘটনায় অনেকেই তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ইডি গ্রেফতার করলেও, গরু পাচার কাণ্ডে কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই-ই। সেকথা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না।






