‘উনি বাংলাদেশ নিয়ে যা খুশি বলতে পারেন আর ওখানে হিন্দুরা মার খাওয়ায় বিজেপি কিছু বললেই দোষের’? মমতাকে আক্রমণ দিলীপের

বাংলাদেশের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বেশ উত্তপ্ত। দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ নিয়ে রাজ্যবাসী বিশেষত বিজেপিকে কোনও মন্তব্য করার থেকে সংযত থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

আজ, মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ মমতার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ওখানে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ওখানে কিছু হলে এখানে চলে আসবেন। আমরা জায়গা দেব। এখন তিনি বলছেন, কেউ কিচ্ছু বলবেন না। বিশেষ করে বিজেপি নেতারা যেন কিছু না বলেন। আপনার পৈত্রিক অধিকার রয়েছে, গণতন্ত্রটা আপনার একার জন্য”?

মমতার দিকে প্রশ্ন শানিয়েই দিলীপ বলেন, “আপনি শুধু যখন যা খুশি তাই বলতে পারেন? আমরা বলতে পারি না? এখানে কি এক পার্টি গণতন্ত্র চলছে? কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল, তারাও বলছে এব্যাপারে কিছু বলা চলবে না। কেন? আপনারা রাজনীতির রুটি সেঁকে নেবেন, আর হিন্দু সমাজ যখন মার খাবে তখন সব বন্ধ”?

ঠিক কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

গতকাল, সোমবার শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই সেখানে অন্য এক উত্তেজনা শুরু হয়। অনেকেই আশঙ্কা করতে থাকেন এবার সেদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলবে। বাংলার কেউ যাতে এই নিয়ে কোনও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য না করেন, সেই বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, “সবাই শান্ত থাকুন। কেউ কোনও সাম্প্রদায়িক আচরণ করবেন না। আইন হাতে তুলে নেবেন না। ভারত সরকার যে ভাবে বলবে আমরা সেভাবেই করব। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুরোধ করছি দয়া করে এমন কিছু পোস্ট করবেন না যাতে কোনও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখানে নষ্ট হয়। আপনারা নিজেরা এমন কোনও মন্তব্য করবেন না যাতে হিংসা বা প্ররোচনা সৃষ্টি হতে পারে”।

সতর্ক করে মমতা বলেছিলেন, “বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে এমন কিছু লিখবেন না বা বলবেন না যাতে বাংলার শান্তি নষ্ট হতে পারে। এটা বিজেপি নেতাসহ আমি সবাইকে বলব। কারণ তারা ইতিমধ্যে কিছু পোস্ট করছে। যে পোস্ট গুলো করা উচিত না। আমি আমাদের নেতাদের বলব কেউ কোনও পোস্ট করবেন না”।

বলে রাখি, এর আগে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি তাঁর দরজায় কড়া নাড়ে, তাহলে তিনি আশ্রয় দেবেন তাদের অর্থাৎ বাংলাদেশীদের পশ্চিমবঙ্গে জায়গা দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ হাসিনা সরকারের পতনের পরই সুর বদলেছে মমতার। এবার সেই নিয়েই প্রশ্ন তুললেন দিলীপ ঘোষ।

আরও অন্যান্য খবর