‘নির্দোষ হিন্দুদের ফাঁসানো হচ্ছে’ তেলেনিপাড়ার ঘটনায় বিস্ফোরক দিলীপ, অভিযোগ অমিত শাহকে

করোনা পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক তরজা থামছে না রাজ্যে। বিজেপির উচ্চ নেতৃত্ব নিয়ম করে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার বাসের ভাড়া ইস্যুতে মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিলীপ ঘোষ জানান, বাসের ভাড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক কথা বলছেন তো, পরিবহণমন্ত্রী অন্য কথা। সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।

এছাড়াও হুগলির তেলেনিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ রুখতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। উল্টে বিজেপি সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে প্রশাসন। এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শনিবার নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন দিলীপবাবু।

বাসভাড়া বাড়ানো ইস্যুতে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি বাসের ভাড়া বাড়ছে না, বেসরকারি ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া অনুমোদন করা হচ্ছে না। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাস এবং মিনিবাস সংগঠনগুলি। পাল্টা তারা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি না মানলে রাস্তায় বাস নামানো হবে না।

অন্যদিকে, তেলেনিপাড়ার হিংসার ঘটনায় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “তেলেনিপাড়ার ঘটনায় অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। নির্দোষ হিন্দুদের কেস দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সাংসদরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন। হুগলির অশান্তি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নিজেদের অকর্মণ্যতা ঢাকতে উল্টে ২ বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে। তাদের সঙ্গে সাধারণ আসামীর মতো ব্যবহার করছে মাননীয়ার পুলিশ।”

দিলীপ ঘোষের আরও অভিযোগ, ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা হংসরাজ জিকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছে।’

দিলীপবাবু জানান, গোটা ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছেন। এই চিঠিতে তেলেনিপাড়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের আনার জন্য রাজ্য ১০৫টি ট্রেনের অনুমোদন দিয়েছে। তার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। মুখ্যসচিব হয়তো ভুল ইমেইল আইডিতে চিঠি পাঠিয়েছেন, তাই রেলমন্ত্রক পাচ্ছে না। রেশন ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়েও এ দিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, খাদ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা রেশন লুঠ করছে। খাদ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রের সব থেকে বেশি দুর্নীতি বলে মন্তব্য তাঁর। এ রাজ্যে বিজেপি আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেও এ দিন দাবি করেন দিলীপ ঘোষ।

আরও অন্যান্য খবর