বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বিজেপি, মঙ্গলবার এমন ইঙ্গিতই দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
কৃষি আইনের বিরোধিতায় দেশের নানান রাজ্যের অ-বিজেপি সরকারগুলি নিজেদের বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করেছে। বাংলাতেও যাতে সরকার এই একই ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাই জন্য দাবী তুলেছে বাম ও কংগ্রেস। তাদের দাবী, বিধানসভায় প্রথমে আস্থা ভোট হোক, তারপর নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনুক সরকার। গতকাল, সোমবার নবান্নের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে অধিবেশন ডেকে প্রস্তাব আনা হবে।
মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেড়িয়ে ফের একবার রাজ্য সরকারকে বাক্যবাণে বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপির পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব আসতে পারে। সেরকম সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবী, বিজেপির পক্ষে অনেক বিধায়ক রয়েছে, তাছাড়া, বেশ কিছু মানুষ তাদের পাশে আছেন, যারা এখনও বিজেপিতে যোগ দেন নি। দিলীপের সাফ কথা বিধানসভায় অধিবেশন ডাকলে আর বিজেপির তরফ থেলে অনাস্থা আনা হলে, মমতার সরকার পড়ে যাবে।
এদিন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনাও করেন তিনি। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে প্রধানমন্ত্রীর কৃষক সম্মান নিধি যোজনা, সব বিষয়েই রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী কী স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাওয়ার যোগ্য? জনগণকে দেখানোর জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজ, একথাও বলেন তিনি।
এদিন কৃষক সম্মান নিধি যোজনা নিয়ে ফের একবার মমতাকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, বিদায়ের আগে কৃষকদের জন রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করল রাজ্য সরকার। এতে তিনি অন্তত একটু হলেও কৃষকদের আশীর্বাদ পাবেন। তিনি বলেন যে বিজেপি কয়েক বছর ধরে এই নিয়ে আওয়াজ করে আসছে। সারা দেশের কৃষক ১৪ হাজার টাকা করে পেয়েছেন, কিন্তু বাংলার কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তাঁর দাবী, রাজ্য সরকার যেন কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালে কৃষকদের নাম নথিভূক্ত করে। তিনি আরও দাবী করেন যে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ৭৩ লক্ষ কৃষকের নামের তালিকা পাঠানো। কেন্দ্র সেগুলি যাচাই করে দেখবে এবং তারপরে ওই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। রাজ্য়ের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই কাজ সেরে ফেলা এবং কেন্দ্রের কাছে পাঠানো।






