গতকাল, বৃহস্পতিবার সাত সকালেই খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়ি হানা দেয় ইডি। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে চলে তল্লাশি। অবশেষে সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর খাদ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। রাত দেড়টার সময় রথীন ঘোষের বাড়ি ছাড়েন তারা।
কী জানালেন রথীন ঘোষ?
ইডির এই তল্লাশির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “পুরসভায় নিয়োগের তদন্তে ইডির অফিসাররা এসেছিলেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সহ-তদন্ত সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি আইনের কিছু ধারা বলে চেষ্টা করলাম ভুল ভাঙাতে। একটা বইও ওনাদের দিয়েছি এবং বলেছি যেখানেই যেটা করুন দেখে শুনে করুন”।
রথীন ঘোষের কথায়, “এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। আমি মন্ত্রী, আমার বাড়িতে ইডি এসেছে শুনলে মানুষের মনে ধারণা হবে আমি হয়তো কিছু করেছি। আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে, আমি বলেছি। ওনারা খালি হাতেই ফিরে গিয়েছেন”।
কী কী নথি পেলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা?
এদিন যখন রথীন ঘোষের বাড়ি থেকে ইডি আধিকারিক বের হন, তখন তাদের হাতে বেশ কিছু নথিপত্র দেখা গিয়েছিল। বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। তবে সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারী আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করার পরই পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। অয়ন শীলের অফিস থেকে পাওয়া নানান নথি ঘেঁটেই মেলে রথীন ঘোষের নাম। একসময় রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর আমলে পুর দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই গতকাল, বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি।
আর কোথায় চলে ইডির তল্লাশি?
শুধু রথীন ঘোষই নয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তল্লাশি চালাতে গতকাল, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনার ১২ জন পুর চেয়ারম্যানের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। এদের মধ্যে রয়েছেন কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা, টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী, বরানগর পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা মৌলি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান পাচু গোপাল রায়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত।
এখানেই শেষ নয়, এদিন আইএএস জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের সল্টলেকের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রত্যেকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়েও স্টেটমেন্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন ইডির তদন্তকারীরা।






