Elder Abuse : নিজের বাড়িতেই বন্দি জীবন! স্বজনদের অত্যাচারে মৃত্যু চাইলেন পাথরপ্রতিমার জয়ন্তী দাস!

সব থেকেও যেন কিছু নেই! স্বামী, সন্তান, সংসার—সবই রয়েছে। তবুও জীবনে শান্তি নেই। অবহেলা আর অত্যাচারের যন্ত্রণায় তিলে তিলে মৃত্যু বরণ করছেন এক মহিলা, অভিযোগ এমনই। জীবনের প্রতি সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাই এবার শেষ আশ্রয় হিসেবে সরকারি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই বৃদ্ধা। কাকদ্বীপের মহকুমাশাসকের কাছে সরাসরি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার বাসিন্দা ৬০ বছরের জয়ন্তী দাস। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, এক পুত্র ও পুত্রবধূ। এক কন্যার ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এই পরিবারের কাছেই তিনি প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁর আর্তি, “আমি শান্তিতে মরতে চাই। আমার আর বাঁচার ইচ্ছা নেই।” এমন মর্মান্তিক বক্তব্য শুনে শিউরে উঠেছে এলাকাবাসী।

জয়ন্তীদেবীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর স্বামী, পুত্র এবং পুত্রবধূ মিলে তাঁকে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার করে চলেছেন। কখনও পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখা হয়, আবার কখনও মারধরের শিকার হন তিনি। এমনকি, দু’বেলা পেট ভরে খেতেও পান না বলে অভিযোগ তাঁর। আর তাই বাধ্য হয়ে কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের দফতরে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য লিখিত আবেদন জানান তিনি।

শুধু পরিবারের বিরুদ্ধে নয়, প্রশাসনের প্রতিও অভিযোগ তুলেছেন জয়ন্তী দাস। তাঁর দাবি, বারবার থানায় ও পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও সুরাহা হয়নি। উল্টে অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে একবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি। পরে ফিরে এলে মারধর করে ফের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি তাঁর ছোট মেয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন, কিন্তু সেখানেও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।

আরও পড়ুনঃ Calcutta High Court: “সরকারি কর্মীদের থেকে কী চাপা রাখা হচ্ছিল?” ১ জুলাইয়ের মধ্যে পে কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের!

বৃদ্ধার এই আবেদন ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। যদিও বৃদ্ধার স্বামী ও ছেলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ছোট মেয়ে সুপ্রিয়া দাস জানান, “মা আমার কাছে এসেছে। কিন্তু আমরা কত দিন কী ভাবে দেখব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” এই আবেদনের খবর পৌঁছেছে মহকুমাশাসক মধুসূদন মণ্ডলের কাছেও। তিনি জানান, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এখন দেখার, নির্যাতিত জয়ন্তী দাস আদৌ ন্যায্য বিচার পান কি না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles