কখনও কখনও বাস্তবতা এতটাই নির্মম হয়ে ওঠে যে, বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক যে ভালোবাসা, স্নেহ আর নিরাপত্তার প্রতীক, সেই বিশ্বাস আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল নদিয়ার এক ঘটনায়। ছোট্ট শিশুটি বাবার হাত ধরেই পৃথিবীর আলো দেখেছিল, সেই বাবার হাতেই তার মৃত্যু ঘটবে—এ কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। মা-বাবার ঝগড়া, পারিবারিক কলহ কখনও কখনও যে কত ভয়ঙ্কর পরিণতি নিতে পারে, এই ঘটনা তার এক করুণ উদাহরণ।
শিশুরা অবুঝ, নিষ্পাপ। তারা জানে না সংসারের অশান্তি কী, জানে না বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মানে। তারা শুধু মা-বাবার কোলে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, ভালবাসার পরশ চায়। কিন্তু যদি সেই বাবা একদিন তার শিশুকে খুন করার মতো পাষণ্ড হয়ে ওঠে? নদিয়ার ধুবুলিয়া এলাকায় এমনই এক ঘটনা ঘটেছে, যা শোনার পর শিহরিত হয়ে উঠবেন যে কেউ। বাবা নিজের হাতে চার বছরের কন্যাকে প্রথমে আছাড় মেরে, তারপর নদীতে ছুড়ে ফেলে দিল!
সূত্রের খবর, নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার মায়াকোল এলাকায় বাসিন্দা বুদ্ধদেব ঘোষ ওরফে বুদু ঘোষ পারিবারিক অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন। স্ত্রী অন্যত্র সম্পর্ক রাখতেন বলে সন্দেহ করতেন তিনি। সম্প্রতি এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। শুক্রবার আচমকা তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। এরপরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বুদ্ধদেব। সারা দিন তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন, প্রতিবেশীরা লক্ষ্য করলেও কেউ গুরুত্ব দেননি।
আরও পড়ুনঃ অভিনয়ে সুযোগ চাইলে ‘কম্প্রোমাইজ’ করতেই হবে? পরিচালকের প্রস্তাব ফিরিয়ে বহুবার আজ হারিয়েছেন অভিনেত্রী রোশনি তন্বী ভট্টাচার্য!
সন্ধ্যায় তিনি হঠাৎ নিজের চার বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে তিনি নিজের মাকে জানান, “আমি মেয়েকে মেরে ফেলেছি!” প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু তার কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। ধুবুলিয়া থানার পুলিশ এসে বুদ্ধদেবকে আটক করে। দীর্ঘ জেরা করার পর তিনি স্বীকার করেন, রাস্তায় আছাড় মেরে মেয়েকে আহত করার পর জলঙ্গি নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
পরের দিন সকালে পুলিশ নদী থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন বাবা কীভাবে এতটা নির্মম হতে পারে? সমাজের প্রতিটি স্তরে পারিবারিক অশান্তি কীভাবে শিশুদের জীবনকে বিপন্ন করছে, এই ঘটনা তার একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার, এই অপরাধের কঠোরতম শাস্তি হয় কি না!





