রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্থান-পতনের মাঝে একটি পরিবারের অন্তর্গত কাহিনি এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক সময় পরিবারের মধ্যে সাধারণ সম্পর্ক থাকলেও এখন বাবা-ছেলের মধ্যে দূরত্ব, এমনকি বিবাদও তীব্র আকার নিয়েছে। জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং তাঁর বোন মায়া সাহার রাজনৈতিক উত্থান বিশ্বনাথ সাহার চোখে মোটেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। সেই কারণেই তিনি নিজেকে ঘরছাড়ার অবস্থায় রেখেছেন এবং বর্তমানে সাইঁথিয়ায় কর্মসূত্রে অবস্থান করছেন।
বিশ্বনাথ সাহা জানালেন, তাঁর ছেলে জীবনকৃষ্ণ এবং কন্যা মায়ার সম্পদের উৎস নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। “আমার সঙ্গে বরাবরের দূরত্ব বজায় রেখেছে তারা। জীবন বিধায়ক হওয়ার পর থেকে এত সম্পত্তি তৈরি হয়েছে, মায়াকেও কাউন্সিলর করা হয়েছে। আমি এখন সেখানে যাই না। জীবন জামিন পেয়ে আসার পর থেকে আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয় না,” তিনি স্পষ্ট করেই জানালেন। এর পাশাপাশি বিশ্বনাথ দাবি করেছেন যে তাঁর নামেও মিথ্যা মামলা হয়েছে।
বিশ্বনাথ আরও বলেন, “মায়া সাহার বাড়ি ইডির তল্লাশির আওতায় আনা দরকার। প্রচুর সম্পত্তি করেছেন তারা। আগে কিছুই ছিল না, শুধু একটি ছোট মিষ্টির দোকান ছিল। জীবন বিধায়ক হওয়ায় সব হয়।” এই অভিযোগ ইঙ্গিত করছে যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার করে পরিবারের দুই সদস্য কীভাবে অর্থনৈতিক উত্থান ঘটিয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
দূর্নীতি মামলার দীর্ঘদিন ধরে জীবনকষ্ণের ওপর তদন্ত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। বিশ্বনাথ সাহা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের পর তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন যে তাঁর ছেলে ও মেয়ের কর্মকাণ্ডে জড়িততা রয়েছে। “আমার যা পুত্র, তার জেল দরকার। জীবন যদি ওখানে থাকে, আমি আর কোনও দিনও যেতে পারব না,” বাবার বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ Long Covid : কোভিড কাটলেও বিপদ শেষ নয়! লং কোভিডে ঝুঁকি বাড়ছে স্ট্রোক ও পার্কিনসনের!সতর্কতা গবেষকদের!
এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত পরিবারের সমস্যা নয়, এটি রাজনৈতিক উত্তেজনাও সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনাথের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ছেলে ও কন্যার রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ককে প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। পরিবারিক দূরত্ব, সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ, এবং মামলার জটিলতা একসাথে মিলিয়ে এই কাহিনি এখনও সমাধানের অপেক্ষায়।





