মিষ্টি নিয়ে চলল তুমুল বচসা। এর জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত বয়ে ওঠে। বচসার মধ্যেই চলল গু’লি। এর জেরে দোকানে মিষ্টি কিনতে আসা এক ক্রেতা গু’লিবিদ্ধ হন। এমন ঘটনার পর দোকানের ঝাঁপ ফেলে দেন দোকানী। এমন ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
বসিরহাটের কলেজ পাড়ার টাকি রোডে তাপস মণ্ডলের মিষ্টির দোকান। জানা গিয়েছে, সেখানে রবিবার রাতে মিষ্টি খেতে গিয়েছিলেন কয়েকজন যুবক। কিন্তু মিষ্টিতে পোকা, দুর্গন্ধ বলে অভিযোগ তোলে তারা। এমনকি বিক্রেতাকে অশ্লীল ভাষায় গা’লি’গা’লা’জ করতে থাকে বলে অভিযোগ। মিষ্টি ব্যবসায়ী তাপস মণ্ডল এর প্রতিবাদ করেন। এরপরই শুরু হয় তুমুল বচসা যা ধীরে ধীরে চরম আকার নেয়।
অভিযোগ, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই মোটরসাইকেলে আসে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী। তারা দোকানের সামনে এলোপাথাড়ি গু’লি চালাতে থাকে। সেই সময় ওই দোকান থেকে এক মিষ্টি কিনছিলেন এক ক্রেতা। নাম নবীনকুমার দাস। এই গো’লা’গু’লির মধ্যে তাঁর বাঁ দিকের কোমরে গু’লি লাগে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গু’লি চালানোর পর এলাকা থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। নবীনকুমার দাসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এর ফলে তাঁকে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মিষ্টি বিক্রেতা জানান, “চারজন এসেছিল। এসে ওরা টেবিলে বসে রসগোল্লার অর্ডার দেয়। আমাদের কর্মচারী তা দিলে বলে এটা ভাল রসগোল্লা না। বলে, তোমরা লোক ঠকিয়ে ব্যবসা করছ। এই নিয়েই ঝামেলা লেগে যায়। আমি শুধু বলেছি দাদা একটু আসতে বলুন। এরপর আমাকে মারতে থাকে। কর্মচারীরা ঠেকাতে এলে ওদেরও মারে। মারধর করে চলেও যায় তারা। কিন্তু কিছু পরেই আবার মেশিন নিয়ে আসে। এরপরই গু’লি চালায়”।
গুলিবিদ্ধ হওয়া নবীনকুমার দাস হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন, “আমি ওষুধ কিনে মিষ্টি কিনতে ঢুকি দোকানে। ওরা হঠাৎ করে বলল এই লোকটা। আমি কাউকে চিনিও না। কিছু বোঝার আগেই গু’লি চালাল। কারও সঙ্গে আমার কোনও ঝামেলাও হয়নি। হঠাৎ পিস্তল বের করে গু’লি চালিয়ে দিল। ২ বার গুলি চালিয়েছে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না”।





