গতকাল, সোমবার এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলা। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি মালগাড়ি। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত ৬০ জনের বেশি। এমন অবস্থায় এবার লোকো পাইলটদের দুর্গতির কথা সামনে এল।
গত বছরও জুন মাসে ঘটেছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনা। এবার এই কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় উঠে আসছে বেশ কিছু প্রশ্ন। সর্বপ্রথম প্রশ্নই উঠে আসছে যে মালগাড়ির চালক কী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন? করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও এমন প্রশ্নই উঠেছিল। কিন্তু এমন অভিযোগ বারবার উঠছেই বা কেন? এবার লোকো পাইলটদের নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন অবসরপ্রাপ্ত রাজধানি এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট বিজয় বাহাদুর সিং।
তাঁর কথায়, মালগাড়ির লোকো পাইলটরা আট থেকে দশ ঘণ্টা পরিষেবা দিতে পারেন। কিন্তু তাদের দিয়ে ১৭-১৮ ঘণ্টা ডিউটি করাতে বাধ্য করা হয়। শীতের সময় চালকরা করতে পারলেও, গরমে শরীর ভেঙে পড়ে। বিজয় বাহাদুর সিং জানান, এই বিষয়ে রেল মন্ত্রক ও রেল বোর্ডের কাছে বারবার জানানো হলেও লোকো পাইলট নিয়গেরর বুশ্যে গুরুত্বই দেওয়া হয় না।
বিজয় বাহাদুর সিং-এর কথায়, ক্লান্তির জন্যই চোখ বুজে আসে লোকো পাইলটদের। তিনি বলেন, “ওভার ডিউটি করার কারণ অন্য। আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো উচিত নয় এটাই নিয়ম। কিন্তু অবাক হয়ে যাবেন ১০ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টা তিনি ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছেন”।
তিনি আরও বলেছেন, “আমরা বারবার বলেছি লোক নিতে। কিন্তু নিয়োগ হচ্ছে না। স্টাফের সংখ্যা সেফটি ক্যাডারে লোক পাইলট, গার্ড, স্টেশন মাস্টার, কেবিন মাস্টার অনেক কম আছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে হইহই। তারপর আর কিছু হয় না”।
প্রাক্তন লোকো পাইলটের কথায়, “লোকো পাইলটদের উপর অত্যাচার করা হয়। ছুটি পায় না। অসুস্থ হলে ধমক দিয়ে লোকো পাইলটদের চাপ দিয়ে কাজ করানো হয়”।
তিনি বলেছেন, “মালগাড়ির লোকো পাইলটরা ১৬ ঘণ্টা থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। হয়ত গাড়ি চালায় না। তবে বসিয়ে রাখে ওদের। নিয়ম আছে লোকো পাইলট ১২ ঘণ্টার বেশি চালাবে না। কিন্তু ১৬ ঘণ্টাও হয়ে যায় ওরা চালায়। ওদের এমন জায়গায় বসিয়ে দেয় যে যেখানে না খাবার পাবে, না জল পাবে। বাধ্য হয়ে চালক অনুরোধ করে এগিয়ে যাওয়ার। আর ও এগিয়ে যায়”।





