রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের ইউনিফর্মের রঙ হবে নীল-সাদা। সরকারের তরফেই এই ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এই পোশাক বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্যের ক্ষুদ্র ছোটো ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দফতরকে। কিন্তু স্কুলের এই পোশাক পরিবর্তন সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না অনেক পড়ুয়াই।
এই পোশাক পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানানো হল শতাব্দী প্রাচীন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি হাই স্কুলে। প্রথম থেকেই এই স্কুলের পোশাক হল খাকি প্যান্ট ও সাদা জামা। কিন্তু রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই স্কুলের পোশাক করা হয় নীল প্যান্ট ও সাদা জামা। কিছুদিন আগেই পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রদের তা দেওয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। এরপরই এই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
শতাব্দী প্রাচীন এই স্কুলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে একটা আবেগ কাজ করে। আর সেই স্কুলেরই পোশাক পরিবর্তন করায় ক্ষোভ জন্মায় স্থানীয়দের মধ্যে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নামের ওই স্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়ারা। গত সোমবার এই কাঁথি হাইস্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়ারা স্কুলের এই পোশাক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে পথে মিছিল করেন।
কাঁথির ডরমেটরি মাঠ থেকে শুরু হয় এই প্রতিবাদ মিছিল। কাঁথি হাই স্কুলের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল। এরপর প্রধান শিক্ষক অনুপম সাউয়ের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন তাঁরা। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক প্রাক্তনীদের দাবি মানেননি। আর তার জেরেই আগামী দিনে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তনীরা।
এই প্রসঙ্গে স্কুলের এক প্রাক্তনী জানান, “শতাব্দী প্রাচীন আমাদের এই স্কুলের খাকি প্যান্ট ও সাদা জামা ছিল ড্রেস। এই পোশাক হল আমাদের ভালোবাসা এবং আবেগ। এভাবে আমাদের ঐতিহ্যকে রাজ্য সরকার বাধা দিতে পারে না”।
আবার অন্যদিকে প্রাক্তনীদের এই ক্ষোভ প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনুপম সাউ বলেন, “প্রাক্তনদের তরফ থেকে আমাকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশক্রমে নীল সাদা পোশাক করা হয়েছিল”।





