কোটা বিরোধী আন্দোলনের পর বাংলাদেশ (Bangladesh) নতুন করে আরও একবার স্বাধীন হয়েছে। অসংখ্য ছাত্রের জীবন বলিদানের পর এই স্বাধীনতা এসেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকেই সেখানে ভারত বিরোধী বিভিন্ন দল ও শক্তিগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে কট্টর ইসলামপন্থী রহমানি জেল থেকে মুক্তি পান। এরপরই বাংলাকে (West Bengal) নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) শাসন মুক্ত করার ডাক এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamta Banerjee) এমন আহ্বান জানালেন বাংলাদেশের জঙ্গি নেতা।
বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনমুক্ত করে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করুন এমনই আহ্বান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাক দিলেন বাংলাদেশের আল কায়দা পন্থী ইসলামী দল আনসারুল্লা বাংলার প্রধান জশিমুদ্দিন রহমানি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরের আজাদির জন্য রহমানি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাহায্য প্রার্থনা করেছে।
আনসারুল্লা বাংলা দল হল আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের একটি গোষ্ঠী দল যদিও এই দলটি ভারতে নিষিদ্ধ। শেখ হাসিনার আমলেই রহমানি জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেলে বন্দী ছিলেন। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে রহমানি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, এটি কোনও হাসপাতালে বসে করেছেন তিনি। সেই ভিডিও বার্তার সত্যতা যাচাই করেছে ঢাকার একটি ফ্যাক্ট চেকার। সেই ভিডিওবার্তাই ভারতবর্ষ সম্পর্কে অনেক সতর্কবার্তা ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একটি সংবাদমাধ্যম এই ভিডিও বার্তা সম্পর্কে বলেছেন, রহমানি ভিডিওতে বলেছেন, “আমি ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। বাংলাদেশ সিকিম বা ভুটানের মতো নয়। এটা ১৮ কোটি মুসলিমের দেশ। তোমরা যদি বাংলাদেশের দিকে একটি পাও বাড়াও, তাহলে আমরা চীনকে বলব মুরগির গলা (শিলিগুড়ি করিডর) টিপে ধরতে। আমরা সাত বোনকে (উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়) বলছি, আজাদির আন্দোলনে যোগ দিতে”।
একইসাথে রহমানি আরও বলেন, “কাশ্মীরকে বলছি আজাদির লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হও। কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তোমাদের সাহায্য করবে। আমরাও আজাদ কাশ্মীর গড়তে কাজ করব”। এরপরই পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়ে রহমানি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, মোদীর শাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করুন। স্বাধীনতা ঘোষণা করুন। শিখদের বলছি, তোমাদেরও সময় এসে গিয়েছে। খলিস্তান গড়তে এগিয়ে এসো। ভারতের সব প্রদেশকে ডাক দিচ্ছি স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুরু করো”।
আরও পড়ুনঃ ‘কালীঘাটে ডেকে মাথায় হাত বুলিয়ে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন তোলা যাবে না…’, কালীঘাটে বৈঠকে গেলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা, লাইভ স্ট্রিমিং হবে কী?
রহমানি আরও বলেছেন, “আমরা চীন, ভারত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকার বিরোধী নই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের উপেক্ষা করে বা চ্যালেঞ্জ জানায় তাহলে আমরা জবাব দেবই। আমার দেশে কেউ যদি গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করে, তাহলে আল্লার সন্তানরা যেভাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল, সেভাবেই বাংলাদেশ রক্ষায় নেমে পড়বে। লড়াইয়ে ময়দানে আল্লাতালার সন্তানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেমে পড়বে। রহমান হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, সেই দিন আর দূরে নয়, যেদিন এই পৃথিবীর মালিক আল্লার পতাকা দিল্লির বুকে উড়বে। তোমাদের দেশ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে”।





