ডিসিআরসিতে ঢুকে পড়লেন ‘ডিলিটেড ভোটার’, আর বাইরে আটক ইভিএম গাড়ি! হলদিবাড়ির ঘটনায় তীব্র বিতর্ক! নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কি তবে বড় সংকটে?

উত্তরবঙ্গের সীমান্ত শহর হলদিবাড়িতে ভোট পরবর্তী রাতেই ইভিএম ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। “গাড়িতে দ্বিতীয় ইভিএম”এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। একদিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হলদিবাড়ি শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, কোনও নিরাপত্তা ছাড়াই একটি গাড়িতে ইভিএম মেশিন নিয়ে বুথের দিকে যাচ্ছিলেন এক সেক্টর অফিসার। সেই সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গাড়িটি আটকান। তাঁদের দাবি, গাড়িতে একটি নয়, বরং “দ্বিতীয় ইভিএম”ও ছিল, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, ওই ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ হয়েছিল বালাডাঙা জুনিয়র বেসিক স্কুলে, যেখানে ১৪০ ও ১৪১ নম্বর বুথে ভোট পড়ে।

গাড়ি আটকানোর পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। পরে সেখানে আসেন মেখলিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় এবং বিজেপি নেতা অর্ঘ্য রায় প্রধান। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট ইভিএমটি ডিসিআরসি (DCRC) কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এরপরই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং গাড়িটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুরো পথজুড়ে গাড়ির পিছন পিছন ডিসিআরসি কেন্দ্র পর্যন্ত যান বিজেপি প্রার্থী নিজে।

অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসিআরসি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির এক নেতা আশেকার রহমান, যার নাম নাকি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তিনি কীভাবে কোনও পরিচয়পত্র ছাড়াই ডিসিআরসি কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন। এই প্রশ্ন তুলতেই পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের তীব্র বচসা বাধে। অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনিকে হুমকিও দেন। পরে অবশ্য পুলিশ ওই বিজেপি নেতাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ড হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি! ভোটের মুখে কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের!অমিত শাহের জনসভার আগেই প্রশাসনে বড়সড় রদবদল!

এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের তরজা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় বলেন, তৃণমূল বুঝতে পেরেছে যে তারা ভোটে হারতে চলেছে, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূলও ইভিএম ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে হলদিবাড়ির এই ঘটনা ভোট পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং ইভিএমের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর