এক ছাত্রীকে ফাঁকা ঘরে একা ডেকে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল স্কুলেরই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক, এমনটাই অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা এলাকা। ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবী তুলেছে ছাত্রীর পরিবার।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চণ্ডীতলায়। সেখানকার মশাট আপতাপ মিত্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন সুভাষচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, গত সোমবার ওই স্কুলের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে এক ফাঁকা ঘরে ডেকে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন ওই প্রধান শিক্ষক। তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে মাকে সব ঘটনা খুলে বলে ওই ছাত্রী। স্কুলের পরিচালন কমিটিতে এই নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে ছাত্রীর পরিবারের তরফে। যদি কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষা দফতরে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানিয়েছে ছাত্রীর পরিবার।
কী দাবী ছাত্রীর মায়ের?
ওই ছাত্রীর মায়ের দাবী, “ওই প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের ব্রেন ওয়াশ করে নিজের দিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। মেয়ের বয়সি ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন”।
এই ঘটনার কথা চাউর হতেই এলাকার অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবী তোলা হয়। গতকাল, বুধবার বিক্ষোভ চলার সময়ে চণ্ডীতলা-১ বিডিও অফিসে ছাত্রীর বাবাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও মশাট স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি মলয় খাঁ।
এদিনের এই বৈঠক শেষে সভাপতি বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে এখনও আসেনি। কিন্তু ঘটনার কানে আসার পরেই আমরা বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছি। ছাত্রীর বাবাকে বলা হয়েছে আইননত ভাবে বিষয়টা অভিযোগ জানাতে। আমরা অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। স্কুল শিক্ষা দফতরকে জানাব”।
এই ঘটনায় হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য তথা এই স্কুলের জমিদাতা পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ওই স্কুলে আমি পড়েছি। আমার দাদুর নামে স্কুল। অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে সে যেই হোক তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত”। এদিন স্কুলে আসেন নি প্রধান শিক্ষক। তাঁকে ফোন করা হলে এক সহ-শিক্ষিকা ফোন ধরেন। ওই শিক্ষিকার দাবী, ছাত্রীটি যে অভিযোগ তুলেছে, তা মিথ্যে। প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত সজ্জন মানুষ। তিনি ছাত্রীদের মেয়ের মতো স্নেহ করেন।





