গত সপ্তাহে কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে জনজীবন যেন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল। জেলায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, উত্তরবঙ্গে এক ভয়াল পরিস্থিতি দেখা যায়। তবে এই সপ্তাহ থেকে আকাশে দেখা গিয়েছে রোদ। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। যখন সকলে ভাবছেন যে এবারে পুজোয় বেশ নিশ্চিন্তে ঠাকুর দেখা যাবে, তখনই এক দুঃসংবাদ দিল হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, দুর্গাপুজোয় নিম্নচাপী ফলে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। নবমীর রাতে দক্ষিণবঙ্গ ভাসতে পারে প্রবল বর্ষণে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে হতে পারে বৃষ্টি। এখন সবটাই নির্ভর করছে নিম্নচাপের গতিপথের উপর।
কী জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর?
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্তটি মায়ানমার উপকূল বরাবর উত্তর দিকে এগিয়ে বাংলাদেশের পদ্মার মোহনা সংলগ্ন উপকূলের উপর দিয়ে যাবে। এরপর তা গভীর নিম্নচাপ তৈরি করে ভূভাগে প্রবেশ করতে পারে। এই নিম্নচাপের জেরেই নবমীর রাতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহবিদদের মতে, পুজোর মধ্যে যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত থাকবে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তবে এর গতিপথ কোনদিকে হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। পশ্চিমী হাওয়ার ধাক্কায় যদি এই ঘূর্ণাবর্ত মায়ানমারের দিকে চলে যায়, তাহলে ভালো। কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে তা পশ্চিমবঙ্গের উপকূল দিয়ে প্রবেশ করতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা
এই নিম্নচাপের জেরেই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে পুজোর মধ্যেই দুর্যোগ দেখা যাবে। নবমীর রাত থেকেই দমকা হাওয়ার সঙ্গে নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, এই ঘূর্ণাবর্তটি তৈরি হওয়ার পর এর গতিপথ সঠিক ভাবে বলা যাবে। তখনই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ঘূর্ণাবর্তটি ঠিক কতটা শক্তিশালী হতে পারে।





