গরমে হাঁসফাঁস করছিল শহর থেকে মফস্বল। কোথাও জল সংকট, কোথাও কৃষিকাজে সমস্যা। এমন সময় হঠাৎ করেই যেন স্বস্তি দিল মেঘলা আকাশ আর টিপটিপ বৃষ্টি। কলকাতা থেকে কোচবিহার—প্রায় সব জেলাতেই দিনের পর দিন আকাশ ঢেকেছে ঘন মেঘে। সকালে ছাতা হাতে বেরোলে বিকেলে সেটাই হয়ে উঠেছে অপ্রয়োজনীয়, আবার হঠাৎ বিকেলে ঝেঁপে নেমেছে বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় শহুরে নাগরিক থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ, সকলেই যেন পড়েছেন দ্বিধায়—বাইরে বেরোবেন তো কীভাবে?
বাচ্চাদের স্কুল যাওয়া থেকে অফিসগামীদের যাতায়াত—সব কিছুতেই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অনিয়মিত বৃষ্টি। রাস্তায় জল জমে যানজট, ট্রেন-বাস চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বহু এলাকায় দেখা দিয়েছে জল দাঁড়ানো ও ডেঙ্গুর আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় নীচু এলাকা জলমগ্ন। বর্ষা এখনও আসেনি, অথচ বৃষ্টির দাপট দেখে মনে হচ্ছে যেন মৌসুমি বায়ু ঢুকে পড়েছে রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবছেন—এই দুর্যোগ তবে এবার আগেভাগেই ভোগাবে গোটা বাংলা?
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে যা আগামী দিনে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সুখবর—এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এর পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুও যথেষ্ট সক্রিয়, ফলে বৃষ্টির মাত্রা থাকবে অনেকটাই বেশি। বুধবার থেকেই বঙ্গের বহু জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া, বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে শুক্রবার পর্যন্ত চলবে প্রবল বৃষ্টি। কলকাতাতেও আগামী কয়েকদিন চলবে টানা বৃষ্টিপাত। হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০–৪০ কিমি গতিবেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, কিছু জেলায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা, আবার কিছু জায়গায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। উত্তরবঙ্গেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, বিশেষত জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদহ প্রভৃতি জেলাগুলিতে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : গুরু অস্তে জীবনে আসবে বড় পালাবদল! জুনে এই ৩ রাশি হবে সবথেকে লাভবান!
হাওয়া অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী শনিবার (৩১ মে) পর্যন্ত বাংলায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। সমুদ্র থাকবে উত্তাল, ফলে মৎস্যজীবীদের আগামী শনিবার পর্যন্ত সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। রবিবার থেকে ধীরে ধীরে দুর্যোগ কমবে বলেই আশা করা যাচ্ছে। ফলে আর কিছুদিন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে রাজ্যবাসীকে। শহর হোক বা গ্রাম—আগামী কয়েকদিন সাবধানে থাকতে পরামর্শ দিচ্ছে হাওয়া অফিস।






