পুরীতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মানেই ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা, ভক্তি আর শ্রদ্ধার জোয়ার। এই বছর পশ্চিমবঙ্গের দিঘাতেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে বিশাল জগন্নাথ মন্দির, রীতিমতো রাজকীয় উদ্বোধন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। রথযাত্রা উপলক্ষে সেখানে যে প্রসাদ বিতরণ হচ্ছে, তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে যেন ফের ছড়াচ্ছে উত্তাপ।
জানা গিয়েছে, হিডকোর (HIDCO) মাধ্যমে দিঘার এই জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে ব্যাপক আকারে প্রসাদ তৈরি করে তা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, এই প্রসাদ বিতরণের জন্য হিডকোকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩২ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে, আরও ১০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অর্থ কীভাবে বরাদ্দ হল, কে অনুমোদন দিল, আর হিডকোর মতো আবাসন পরিকাঠামো সংস্থাকে এই কাজে নিযুক্তই বা করা হল কেন?
এই ইস্যুতে বিজেপির একাধিক নেতা তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য যেখানে আর্থিক সংকটে ভুগছে, সেখানে হঠাৎ ৪২ কোটি টাকার প্রসাদ বিতরণ কেন? এ কিসের প্রচার?’’ পাল্টা জবাবে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের মানুষকে ধর্মীয় উৎসবে সামিল করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “এতে খারাপ কিছু নেই, বরং সমবেত প্রয়াসের পরিচয়” – দাবি কুণালের।
তবে এই বিতরণ নিয়ে বিতর্ক যতই থাকুক, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ – এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও – এই প্রসাদ পেয়ে খুশি হয়েছেন অনেকেই। জানা যাচ্ছে, রেশন দোকান, কাউন্সিলরের মাধ্যমে কিংবা বুথ স্তরে নেতাদের তত্ত্বাবধানে বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে প্রসাদ। সংখ্যালঘু বহু পরিবারও উৎসবের আনন্দে সামিল হয়েছেন। অনেকের বক্তব্য, “এটা শুধু ধর্ম নয়, এটা বাংলার ঐতিহ্য”।
আরও পড়ুনঃ NIA : পহেলগাঁও কাণ্ডে বড় মোড়! হামলার ‘ছায়া-সঙ্গী’ দুই জঙ্গিকে পাকড়াও করল NIA!
যদিও বিরোধীদের দাবি, এই উদ্যোগ আসলে একপ্রকার রাজনৈতিক প্রচার। রথযাত্রা ও হিন্দু আবেগকে সামনে রেখে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই রাজ্য সরকার এই ‘প্রসাদ রাজনীতি’ শুরু করেছে। সরকারি অর্থের এই ব্যবহার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান হিডকোর ভূমিকা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও তদন্ত ও বিতর্ক হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই বিতরণ শুধুই ভক্তির প্রশ্ন না কি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ—তা কীভাবে প্রমাণিত হয়।






