ঘরে অশান্তি থাকলে বাইরের হস্তক্ষেপ অনিবার্য—এই কথাটাই যেন আরও একবার প্রমাণ করছে পাকিস্তান (Pakistan)। দেশের আর্থ-সামাজিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার ফের উঠে এল বিভাজনের সুর। আর সেটা দেশভাগ নয়, দেশের মধ্যেই ফের রাজ্যভাগের দাবি। আর এই দাবিকে ঘিরেই জোর চর্চা পাকিস্তানের রাজনীতিতে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ধর্ম বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সর্দার মহম্মদ ইউসুফ দাবি করেন, ইমরান খানের গড় খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশকে ভাগ করে ‘হাজারা’ নামে একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের। তাঁর বক্তব্য, বৃহৎ প্রদেশ হওয়ার ফলে উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু মানুষ। তাই ছোট ছোট প্রদেশ গঠন করলেই তবেই পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব।
শুধু ইউসুফই নন, এবার একই সুর শোনা গেল বিরোধী দল পিপিপি-র সাংসদ সৈয়দ মুর্তজা মাহমুদের গলাতেও। তাঁর দাবি, দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাবকে ভাগ করে দক্ষিণ পাঞ্জাব নামে নতুন প্রদেশ গঠনের। তাঁর মতে, পাকিস্তানের মোট ৬০ শতাংশ অঞ্চল জুড়ে থাকা পাঞ্জাবকে না ভাগ করলে রাজ্যের মানুষ আগামী দিনে প্রতিবাদে নামবেন। এমনকী সংসদে দাঁড়িয়ে শেহবাজ সরকারের পাঞ্জাব বিরোধী স্লোগানের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিছক রাজনৈতিক দাবির চেয়েও বেশি কিছু। দীর্ঘদিন ধরেই খাইবার বা দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাসিন্দারা পানীয় জলের অভাব, প্রশাসনিক পরিষেবা থেকে বঞ্চনা, সড়ক ও শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষুব্ধ। সর্দার ইউসুফের মতে, আলাদা প্রদেশ তৈরি হলে নিজস্ব বাজেট ও প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ আরও সুবিধা পাবে।
আরও পড়ুনঃ WestBengal : ‘প্রসাদ রাজনীতি’ ঘিরে তাপ বাড়ছে বাংলায়! রথযাত্রায় হিডকোর খরচ নিয়ে BJP-র বিস্ফোরক প্রশ্ন!
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই দাবির পেছনে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টাই হচ্ছে কি না! কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসেই স্পষ্ট, বহুবার বিভাজনের দাবি তুলে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের আর্থিক অবস্থা বেহাল, সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত সমাজ। এই অবস্থায় প্রদেশ ভাগের দাবি যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো। তবে আপাতত এই দাবিকে ঘিরে ফের চাপে শেহবাজ সরকার। আর সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন, এ দাবির বাস্তবায়ন আদৌ হবে কি না!





