পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে, যখন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছেন। এর আগে রাজ্য বিজেপির অন্যান্য নেতারা হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এই দাবি করেছেন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। তাঁর এই দাবি জনমনে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে, কারণ এই ধরনের বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। শুভেন্দু অধিকারী এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করে বলেছেন, সেখানে হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষিত নয়। তাঁর মতে, হিন্দুদের ভোটদানে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করানোর প্রয়োজন। এই অভিযোগে তিনি মুর্শিদাবাদ সহ একাধিক অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেছেন, যেখানে সম্প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।
এই সহিংসতার ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, এই ধরনের সহিংসতা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দ্বারা তদন্ত করা উচিত। মুর্শিদাবাদে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুলিচালনা ও বোমাবাজির ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই ঘটনায় যেভাবে দেশবিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে, তা হুঁশিয়ারি দেওয়ার মতো।’’
শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই আদালতে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য পিটিশন দায়ের করেছেন, যার ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে মোতায়েন করা হয়। তবুও, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি, এবং সেখানকার মানুষ নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত ! ধর্ম নয়, হৃদয় বড়! হিন্দু বৃদ্ধকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন দুই মুসলিম যুবক
এদিকে, সুকান্ত মজুমদারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘যদি একদিন বাংলায় বিজেপির সরকার আসে, মুর্শিদাবাদে যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’ সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণে মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতি এখন আরও গভীর আলোচনা ও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






