একবিংশ শতাব্দীতে বাস করেও আমাদের সমাজে এখনও ছেলে-মেয়ের বৈষম্য রয়েই গিয়েছে। অনেক পরিবারের কাছে কাম্য পুত্রসন্তান। তাই কন্যাসন্তান হলেই জন্মদাত্রী মায়ের কপালে জোটে কত গঞ্জনা, মানসিক অত্যাচার, এমনকি শারীরিক অত্যাচার পর্যন্তও। ফের এমনই এক ঘটনার কথা জানা গেল।
কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। শুধু তাই-ই নয়, ৬ মাসের একরত্তি-সহ গৃহবধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় হয়েছে বলে খবর। লজ্জাজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দেগঙ্গার বুড়ির হাত চাঁদপুর এলাকায়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, হাবড়ার বিড়া এলাকার বাসিন্দা এলিনা বিবির বছর সঙ্গে বছর দেড়েক আগে বিয়ে হয় বুড়িরহাট চাঁদপুরের বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের আগে থেকেই আলাপ-পরিচয় ছিল তাঁদের। বেশ কিছুদিন প্রেমের সম্পর্কের পরই বিয়ে হয় দুজনের। বিয়ের পর দম্পতির একটি মেয়ে হয়। সেই মেয়ের বয়স মাত্র ৬ মাস।
কিন্তু অভিযোগ, কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই ওই গৃহবধূর উপর শুরু হয় শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার। মারধর করা হয় তাঁকে। তাঁর অপরাধ সে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। দিনের পর দিন এই গঞ্জনা, অত্যাচার বাড়তে থাকে। এরপর আর সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে যান ওই গৃহবধূ।
এরপর আজ, বৃহস্পতিবার শিশুকন্যাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, এদিন শ্বশুরবাড়ি ফেরার পর ফের তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি, ঘরে তালা মেরে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দেগঙ্গা থানার দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। প্রতিবেশিরা এই ঘটনার সুবিচার চেয়েছেন। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের পাল্টা অভিযোগ, বউমাই নাকি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাই তাঁকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।





