ছোটবেলায় অনেকেই কুমির-ডাঙা খেলেছেন। জলে নেমে কুমিরের কাছে ধরা পড়লেই আউট। বিশালাকার এই প্রাণীটিকে ভয় পান না, এমন বোধ হয় কেউ নেই। তবে এবার কুমিরের হাতে পড়তে আর জলে নামতে হল না। কারণ স্বয়ং কুমিরই এবার উঠে এল ডাঙাতে। আর সেই দৃশ্য দেখে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় এলাকাবাসীদের।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এমন ভয়ার্ত ঘটনা ঘটেছে কালনার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায়। জানা গিয়েছেম গতকাল, সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ ওই এলাকার কয়েকজন ওই রাস্তায় ঘুরতে দেখেন এক বিশালাকার কুমিরকে। প্রায় ১০ ফুট লম্বা হবে সেই কুমির। তা দেখেই ভয়ে শিটিয়ে জানা সকলে। আর কুমির? সে তো এলাকাজুড়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে। যেন সে এক অতিথি আর এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখছে।
এমন দৃশ্য দেখেই কালনা থানায় খবর দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর যায় বন দফতরে। কুমিরটিকে কীভাবে লোকালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হবে বা কুমির যাতে কারোর উপর হামলা না করে বা কেউ যাতে ভয় পেয়ে কুমিরটিকে মেরে ফেলতে উদ্যত না হয়, সেদিকে নজর রাখেন বন দফতরের কর্মীরা। সামনেই ভাগীরথী নদী। নদী সংলগ্ন গ্রাম পালপাড়া। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকেই উঠে এসেছে এই কুমির।

কী জানাচ্ছেন এলাকাবাসী?
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “অনেক রাত তখন। কিছুতেই ঘুম আসছে না, অনেকক্ষণ ধরে বিছানায় বসে। বাইরে শুনছি কুকুরগুলো ডেকেই চলেছে। কেমন একটা মনে হল। জানলা খুলে উঁকি দিতেই দেখি হামাগুড়ি দিয়ে কুমিরটা আসছে। আমি তখনও ভাবতে পারিনি কুমির। দরজা খুলে এগিয়েও যাই। এরপর সামনে থেকে দেখে তো চোখ কপালে উঠল”।
কী জানানো হল বন দফতরের তরফে?
বন দফতরের আধিকারিক শিবপ্রসাদ সিনহা বলেন, “এখান থেকে গঙ্গা খুবই কাছে। সেখান থেকেই কুমিরটি উঠে পড়েছে মনে হচ্ছে। তবে লোকালয়ে কুমির চলে আসাটা চিন্তার ব্যাপার। মিষ্টি জলের কুমির এটা। তাই মানুষকে কামড়ানো বা তাড়া করা এদের স্বভাব না। তবু কীভাবে লোকালয়ে ঢুকে গেল দেখতে হবে”।





