কামদুনি গণধ’র্ষ’ণ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাতে খুবই অসন্তুষ্ট দুই প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল। নিম্ন আদালতে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এমনকি তাদের মধ্যে একজন যার ফাঁসির সাজা পর্যন্ত হয়েছিল, সেই ৪ জন গতকাল, সোমবার জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আর তা শুনেই কেঁদে ভাসালেন টুম্পা-মৌসুমিরা।
রাজ্য একদিকে কামদুনি মামলায় হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। আর অন্যদিকে টুম্পা-মৌসুমিরা দাবী করছেন যে নির্ভয়াকাণ্ডে যে আইনজীবী লড়েছিলেন, যার সাহায্যে দোষীদের সাজা হয়েছিল, তিনি যেন কামদুনি মামলা লড়েন। আইনি লড়াইয়ে সাহায্য পেয়ে সোমবার সন্ধ্যেয় তারা দেখা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও।
কী জানালেন তারা?
এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করার পর মৌসুমি বললেন, “আমরা চাইছি যে উকিল নির্ভয়াকাণ্ডে লড়াই করেছিলেন, দোষীদের ফাস্টট্র্যাক কোর্টে সাজা হয়েছিল, সেই উকিলকেই আমি ওনার কাছে চেয়েছি”।
কামদুনি কাণ্ডের চারজন ছাড়া পাওয়ার কথায় কেঁদে ফেলেন মৌসুমি। বলেন, “রাজ্যের প্রশাসন, সিআইডি কিছু করতে পারল না। সবাই ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। সিআইডি যদি ঠিকঠাক চার্জশিট পেশ করত, এরা আজ ছাড়া পেত না। পুলিশ-প্রশাসন সবাই ব্যর্থ”।
এই মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টুম্পা-মৌসুমিরা। সিবিআই তদন্তের দাবী করেছেন টুম্পা। তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা সিবিআই তদন্ত চাইছি। এরপর গ্রামবাসীদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। রাজ্য সরকারের কাছে আমরা যে সুবিচার চেয়েছিলাম, তা আমরা পাইনি”।
টুম্পা এও জানান যে তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাঁর কথায়, “২০১৬ সালের পর থেকে পুলিশ ক্যাম্প দেখতে পাইনি। এখন দেখছি দু-একজন পুলিশ আছে। আমরা পুরোপুরি নিরাপত্তা পাচ্ছি না। আমাদের কোনও নিরাপত্তা দরকার নেই, শুধু গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা দিক”।





