এই শহর দুর্গা পুজোর আনন্দে গা ভাসায় না। কারণ ঠিক এক মাস পরেই এই শহর মেতে ওঠে নিজস্ব আনন্দে, নিজস্ব ঐতিহ্যে। একান্তই নিজস্ব জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধনায়। এই শহর চন্দননগর (Chandannagar)। ফ্রেঞ্চ কলোনি (French colony) হিসেবে এই শহরের যতটা না পরিচিত তার থেকেও এই শহর অনেক বেশি পরিচিত জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagadhatri Puja) জন্য। আলোকসজ্জায় চন্দননগর বিশ্বখ্যাত।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বাঙালির সব উৎসবই প্রায় মাঠে মারা পড়তে চলেছে। কাটছাঁট হচ্ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোয়। আর এই কারনেই চন্দননগরবাসী চিন্তিত কি ভবিষ্যৎ জগদ্ধাত্রী পুজোর? এই বছরের জন্য কি বন্ধ হতে চলেছে চন্দননগরের বুকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শুরু করা জগদ্ধাত্রী পুজো?
সেই বিষয় নিয়েই আলোচনায় বসে ছিল কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা কমলেও নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস করবে না চন্দননগর। উচ্চতা কমিয়ে যেমন খুশি জগদ্ধাত্রী প্রতিমা মূর্তি বানানো যাবে না। ঐতিহ্য মেনেই বড় আকারেই গড়তে হবে জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।
একই সঙ্গে চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতি বছর পূজিত হওয়া স্থায়ী কাঠামোকে ব্রাত্য করে আলাদা প্রতিমা অর্থাৎ ছোট ঠাকুর নির্মাণের মাধ্যমে পুজো করা যাবে না। চন্দননগরের ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে বারোয়ারি স্থায়ী কাঠামোয় মাতৃপ্রতিমা নির্মাণ করবে। তবে স্বাভাবিক উচ্চতাসম্পন্ন পুজো আয়োজনে অনিচ্ছুক যাঁরা, তাঁরা স্থায়ী কাঠামোয় জগদ্ধাত্রী মাতার প্রতিচ্ছবি ফ্লেক্স স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিমাবিহীন ঘটপুজোর আয়োজন করতে পারবেন।
সম্প্রতি ১১৯টি পূজা কমিটি চিরাচরিত স্বাভাবিক উচ্চতাসম্পন্ন প্রতিমা নির্মাণের মাধ্যমে পুজো করার মত দেয় এবং ৩৩টি পুজো কমিটি ঘটপুজোর পক্ষে মতামত দেয়। তার ভিত্তিতেই এদিন বৈঠক হয়। সেখানে আড়ম্বরহীন পূজা অর্চনাদি আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রশাসনিক অনুমতি গ্রহণ করে সরকারি স্বাস্থ্যবিধিকে মান্যতা দিয়ে পরিবেশবান্ধব পুজোর উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়। পাশাপাশি তিন দিক উন্মুক্ত বড় পরিমাপের আসর যুক্ত মণ্ডপ নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে পুজো কমিটিগুলোকে। একই সঙ্গে এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপ প্রতিদিন স্যানিটাইজেশন এর ব্যবস্থা এবং মাস্কবিহীন অবস্থায় পুজোমণ্ডপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। মানুষ ও যানচলাচলের জন্য পথ উন্মুক্ত রেখে আলোকসজ্জা প্রদর্শন করা যেতে পারে বলে জানানো হয়। সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থে পুজো কমিটিগুলিকে বিশেষ দায়িত্ব ও কর্মসূচি পালন করতেও বলা হয় কমিটির তরফে।
উক্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, ২০২০ সালের জয়ন্তী বর্ষ পালনকারী পুজো কমিটিগুলি, আগামী বছর ২০২১ সালের জয়ন্তী বর্ষ পালনকারী পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে, তাদের জয়ন্তী বর্ষ পালনের পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত করার সুযোগ পাবেন যদি আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। আর চন্দননগরের জগৎ বিখ্যাত প্রতিমা নিরঞ্জন শোভাযাত্রার গাইডলাইন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সত্বর প্রকাশ করা হবে কমিটির তরফে জানিয়েছেন কর্তারা।






