স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে দেখা করার পরই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মমতাকে রাজভবনে তলব রাজ্যপালের, তবে কি রাজ্যে নতুন কিছুর ইঙ্গিত?

এর আগেও একাধিকবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সদ্যই তিনি দেখা করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে। আর এরপরই রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানালেন রাজ্যপাল যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের পর বিরোধীরা আরও বেশি করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই নিয়ে গতকাল, সোমবার দিল্লিতে অমিত শাহ্‌’র সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন জগদীপ ধনখড়। তবে তাদের মধ্যে আদৌ কী নিয়ে কথা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে আলোচনার বিষয় যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল, তা অনুমান করাই যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে বোমা-বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা, এসবই ওই আলোচনায় উঠে আসে বলে মনে করা হচ্ছে, আর এবার মমতার সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করতে চান রাজ্যপাল। এই কারণে আজ, মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে রাজভবনে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। এই চিঠিতে বলা হয়েছে যাতে চলতি সপ্তাহের যে কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1508771505798144003

এদিকে বগটুই কাণ্ডে আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরই শাসকদলের তরফে বলা হয়েছে যে তারা যদি সিবিআই তদন্তে ষড়যন্ত্রের আভাস পায়, তাহলে তারাও ছেড়ে কথা বলবে না। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জগদীপ ধনখড়।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্যপালের এই উদ্বেগ এবং মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনার ডাক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “রাজ্যপাল বিজেপির প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করছেন। অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় বাংলার আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভাল। যে দু’একটি কুৎসিত ঘটনা ঘটছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপযুক্ত পদক্ষেপ করেছেন। কিন্তু বিজেপি রাজ্যের মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পিছনের দরজা দিয়ে মাথা গলানোর চেষ্টা করছে। রাজ্যের বিরুদ্ধে যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হচ্ছে, রাজ্যপাল তার অংশীদার হিসাবে কাজ করছেন”।

আরও অন্যান্য খবর